মুম্বাই শহরে ১৬ বছর আগে এক বধির ও বধিরা তরুণীকে মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে ধর্ষণ করা হয়। সম্প্রতি ভুক্তভোগী সেই অপরাধীর পরিচয় জানিয়ে তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের শেষের দিকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন এবং অপরাধীর চেহারা ও আচরণ বর্ণনা করে তাকে শনাক্ত করেন। তার বর্ণনা অনুসারে তদন্তকারী দল দ্রুত সন্দেহভাজনের বাড়িতে পৌঁছে তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত যুবক পূর্বে একই পদ্ধতিতে একাধিক বধির ও বধিরা নারীর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। তার অপরাধের পদ্ধতি ছিল প্রথমে মাদকদ্রব্য দিয়ে শিকারকে অচেতন করা, তারপর শারীরিক নির্যাতন করা।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহভাজন বিশেষভাবে বধির ও বধিরা নারীদের লক্ষ্য করতেন এবং তাদেরকে একইভাবে শোষণ করতেন। এই প্যাটার্নের ভিত্তিতে তিনি একাধিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সাতজন নারী থেকে একই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলাকালীন আরও তথ্য সংগ্রহের ফলে শিকারীর সংখ্যা ২৪ টিরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অধিকাংশ অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ফোন রেকর্ড এবং শিকারীদের বিবরণী ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
সন্দেহভাজনকে বর্তমানে মুম্বাইয়ের স্থানীয় জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং তাকে যৌন নির্যাতন, মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন এবং একাধিক অপরাধের অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হবে।
মামলাটি মুম্বাইয়ের আদালতে আগামী সপ্তাহে শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচারকের রায়ের ভিত্তিতে অপরাধীর শাস্তি নির্ধারিত হবে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি সব অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এবং জরিমানা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এই ধরনের সংবেদনশীল অপরাধের প্রতিবেদন লেখার সময় শিকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। সংবাদমাধ্যমে শিকারীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে কেবল অপরাধের প্রকৃতি ও আইনি দিক তুলে ধরা উচিত।
পুলিশের মতে, ভবিষ্যতে একই রকমের অপরাধ রোধে বধির ও বধিরা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে। তদন্ত চলমান থাকায় নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে।



