সুদানের আবেই এলাকায় ১৩ ডিসেম্বর সংঘটিত ড্রোন হামলায় শহীদ ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর শেষ যাত্রা আজ রবিবার ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে সম্পন্ন হয়। শোকসন্ধ্যা শুরু হওয়ার আগে মৃতদের জীবনকথা সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয় এবং আত্মীয়স্বজনের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শোনা যায়।
উল্লেখযোগ্য যে, শোকসন্ধ্যার আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক পদবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মিডিয়া প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, যদিও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই আক্রমণকে ‘অমানবিক’ বলে নিন্দা করেন এবং শান্তি রক্ষার পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ইউনিসফা মিশনের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র প্রেরণ করা হয় এবং মিশন এলাকায় ড্রোন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার দাবি তোলা হয়।
শহীদদের দেহ ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১:০৫ টায় অবতরণ করে। দেহ বহনকারী উড়োজাহাজের অবতরণ পরেই শোকসন্ধ্যা শুরু হয়। শোকসন্ধ্যার শেষে, প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব শোকসন্ধ্যা সমাপ্তির চিহ্নে ফুলের পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ইউনিসফা চিফ কমিউনিটি লিয়াজোঁ অফিসার শোকসন্ধ্যা সমাপ্তির পর জাতিসংঘের পতাকা আত্মীয়স্বজনের হাতে হস্তান্তর করেন।
শোকসন্ধ্যার সমাপ্তিতে, প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষরিত পৃথক শোকবার্তা শোকগ্রস্ত পরিবারের কাছে প্রদান করা হয়। এই শোকবার্তা পরিবারকে সরকারী সমর্থন ও সমবেদনা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
ড্রোন হামলায় আহত নয়জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে আটজনকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি একজন আহতের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সুদানের এই ধরনের ড্রোন আক্রমণ আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাকারী মিশনের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে মিশন এলাকায় উচ্চতর প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে, এই ঘটনার ফলে আফ্রিকায় শান্তি রক্ষাকারী বাহিনীর অবদান ও ঝুঁকির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এই শোকসন্ধ্যার মাধ্যমে শহীদদের ত্যাগকে সম্মান জানাতে চায় এবং ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। শোকসন্ধ্যা শেষে, সরকারী কর্মকর্তারা শোকগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা জানায়।
সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলা এবং তার পরবর্তী শোকসন্ধ্যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশি শান্তি রক্ষাকারীদের ত্যাগই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষার মিশনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জেরও একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই ধরনের হুমকি মোকাবেলায় জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বিত কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



