গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর ঢাকার কারওয়ান বাজারে শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার দুটোই লক্ষ্যবস্তু হয়। দু’টি অফিসে ভাঙচুর, দখল এবং আগুন লাগিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসের কাজ করা হয়। ঘটনাস্থলে গৃহীত অগ্নি নিভিয়ে না পারায় উভয় ভবনই ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়।
প্রথম আলোর কার্যালয় এবং ডেইলি স্টার অফিসের জানালা, দরজা ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়, কাগজপত্র ও সরঞ্জাম চুরি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত চিত্রে একাধিক অপরিচিত ব্যক্তি গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু স্থানে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ধর্ম উপদেষ্টা এই হামলাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা বা মানুষের প্রাণহানি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কাজকে অন্যায় ও গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান যে, দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
হামলার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সূত্র অনুযায়ী, অপরাধে জড়িত কয়েকজনকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
একই রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের ওপর গৃহহিংসা ঘটেছে। কর্মীকে শারীরিকভাবে হিংসা করে হত্যা করা হয়, পরে গাছের ডালে ঝুলিয়ে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে এবং তদন্তের অধীনে রয়েছে।
ধর্ম উপদেষ্টা এই গৌরবহীন অপরাধকে নিন্দা করে বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গর্হিত কাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনোভাবেই আইনের শাসনকে ব্যাহত করতে দেবে না এবং দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তকারী দল প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মামলাটি শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালত থেকে প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুইটি ভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



