19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকউত্তর কোরিয়া জাপানের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে আহ্বান

উত্তর কোরিয়া জাপানের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে আহ্বান

উত্তর কোরিয়া তার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) র মাধ্যমে রবিবার জানিয়েছে যে জাপানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ইচ্ছা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা উচিত। সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে টোকিও স্পষ্টভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা জাপানের নিরাপত্তা এবং পুরো এশীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।

কেসিএনএ অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের পরপরই জাপান দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্পের প্রতি সক্রিয় মন্তব্য শুরু করে। গত অক্টোবর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং-এর সঙ্গে বৈঠকের পরে দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন তৈরির অনুমোদন দেন। এই অনুমোদনের সঙ্গে জাপানের পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট ফর জাপান স্টাডিজের একজন কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে জাপানের পারমাণবিক অস্ত্রের দীর্ঘদিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে এবং এটি কোনো “অপ্রাসঙ্গিক” মন্তব্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি জাপান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে এশীয় দেশগুলো একটি বিশাল পারমাণবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

টোকিওর একজন কর্মকর্তা পূর্বে জাপানের পারমাণবিক অস্ত্র রাখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, যা উত্তর কোরিয়ার এই প্রতিক্রিয়ার সরাসরি কারণ বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জাপানের নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে জড়িত ছিলেন এবং তার মন্তব্যের পরে উত্তর কোরিয়া দ্রুতই এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে।

এই পরিস্থিতি এশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন অনুমোদন এবং জাপানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্রের ইচ্ছা উভয়ই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদি জাপান পারমাণবিক অস্ত্রের পথে অগ্রসর হয়, তবে তা উত্তর কোরিয়া, চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলবে এবং পারমাণবিক প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াবে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের বিবৃতি এবং মন্তব্যের পরবর্তী মাইলস্টোন হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপের পুনর্বিবেচনা, পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির পুনরায় আলোচনা। এছাড়া, জাপানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি গঠনে জড়িত কর্মকর্তাদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পার্লামেন্টে পারমাণবিক নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক তীব্র হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। জাপানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া একত্রে এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করা, যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসারণ রোধ করা যায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। ভবিষ্যতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং জাপানের নিরাপত্তা নীতি পুনর্মূল্যায়ন এই বিষয়ের সমাধানে মূল ভূমিকা পালন করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments