রবিবার দুপুরে সরকারী সচিবালয়ের সমসাময়িক বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন সরকারকে অগ্নিকাণ্ড ও মানুষের ওপর আক্রমণমূলক কাজকে ক্ষমা না করার দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নি ব্যবহার করে মানুষকে পুড়িয়ে মারা এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি জ্বালিয়ে ধ্বংস করা গর্হিত অপরাধ, যার জন্য সরকার কোনো রকমের অবহেলা দেখাবে না।
সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়, তবুও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা ঘটনার প্রতি তিনি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন অপরাধ সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এই ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তিনি জোর দিয়ে বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, ময়মনসিংহের ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
এ ধরনের অপরাধের মোকাবিলায় সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সকল সংস্থার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন এবং সরকার তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ধর্ম উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ড এবং হিংসাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার যে কোনো ধরনের অবহেলা করবে না এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ময়মনসিংহের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ত্বরান্বিত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ম উপদেষ্টা এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, আইনের শাসন বজায় রাখতে দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
সচিবালয়ের এই সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা সরকারের নিরাপত্তা নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে সরকার অতিরিক্ত সম্পদ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।
অধিকন্তু, ধর্ম উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি বলেন, জনগণকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করা হবে।
এই ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। যদিও তারা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, তবু নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও তদারকি এবং স্বচ্ছতা দাবি করা হয়েছে।
ধর্ম উপদেষ্টা শেষ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ড এবং হিংসাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার যে কোনো সময় কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি আশ্বাস দেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



