ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার গত রবিবার দুপুরে ঢাকা শহরের প্রথম আলো প্রকাশকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সন্ত্রাসী হামলা, অগ্নিকাণ্ড এবং লুটপাটে ধ্বংসপ্রাপ্ত অফিসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই হামলা দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বতন্ত্রতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে এবং তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ মুহূর্ত।
মিলার এই মন্তব্যের পরেই তিনি প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, ঘটনার সামগ্রিক দিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও তাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যাতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে, রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এমন ধরনের সহিংসতা আর কখনো না ঘটার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়া উচিত।
মিলার আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংবাদমাধ্যমের কাজ অব্যাহত রাখা জরুরি। তিনি প্রকাশকের দায়িত্বকে তুলে ধরে বলেন, পত্রিকাটি তার প্রকাশনা চালিয়ে যাবে এবং সঠিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
প্রথম আলোয়ের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি এবং অনলাইন প্রধান শওকত হোসেন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জানান, অফিসের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্মীরা দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
হামলার ফলে প্রথম আলোর ভবনের বেশ কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া এখনও দৃশ্যমান। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, অপরাধীদের অনুসন্ধান ও গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা জানান, তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মিলার উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা না হলে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে বলছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য।
এই ঘটনার পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনও প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানায়। তারা একত্রে দাবি করে, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন আক্রমণ বন্ধ করা এবং দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার শেষ কথা হিসেবে বলেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত এবং সকল নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা পেতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
প্রথম আলোয়ের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অফিসের পুনর্নির্মাণে ত্বরান্বিত কাজ শুরু করেছে এবং সংবাদ সরবরাহে কোনো বাধা না দিয়ে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা জানান, এই ধরণের হুমকি সত্ত্বেও তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
সামগ্রিকভাবে, ইইউ রাষ্ট্রদূত এবং প্রথম আলোর নেতৃত্বের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার জন্য স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অবিচলিত কাজ অপরিহার্য এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ না হওয়ার জন্য সকল স্তরে সতর্কতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।



