27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েলি সশস্ত্র লঙ্ঘন গাজা শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়কে কঠিন করে তুলছে

ইসরায়েলি সশস্ত্র লঙ্ঘন গাজা শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়কে কঠিন করে তুলছে

মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার এবং তুরস্কের কূটনীতিকরা ১০ অক্টোবর গাজা-হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সশস্ত্র বিরতির প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদান উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি পক্ষের ধারাবাহিক লঙ্ঘন দ্বিতীয় পর্যায়ে রূপান্তরকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০‑পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ envoy স্টিভ উইটকফ ফিদান এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিয়ামিতে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উইটকফ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের পক্ষ থেকে গাজা সশস্ত্র বিরতির সকল পক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে, আত্মসংযম বজায় রাখতে এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান।

বৈঠকের সময় ইসরায়েলি আক্রমণ গাজা অঞ্চলে অব্যাহত ছিল। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ৭৩০‑এরও বেশি বার সশস্ত্র বিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এই লঙ্ঘনগুলোতে বিমান, আর্টিলারি এবং সরাসরি গুলিবর্ষণ অন্তর্ভুক্ত, যা গাজা জনগণের ওপর ধারাবাহিক ক্ষতি সৃষ্টি করছে।

সর্বশেষ আক্রমণে একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত বিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বোমা হামলা চালায়, যার ফলে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ফলে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলি আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে নিহত প্যালেস্টাইনি সংখ্যা প্রায় ৪০০-এ পৌঁছেছে।

হাকান ফিদান জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি লঙ্ঘনগুলো কেবল গাজা-হামাসের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে লঙ্ঘন রোধের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বৈঠকের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের envoy স্টিভ উইটকফ ট্রাম্পের ২০‑পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পার পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সকল পক্ষকে আত্মসংযম বজায় রাখতে, তাদের দায়িত্ব পালন করতে এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান।

এই আলোচনার পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেইখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে ফিদানের বক্তব্যের সাদৃশ্য দেখা যায়; উভয়ই গাজা-হামাসের মধ্যে স্থায়ী শান্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক গাজা-হামাসের সশস্ত্র বিরতির প্রথম ধাপের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ ধাপের রোডম্যাপ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি লঙ্ঘনের সংখ্যা এবং সাম্প্রতিক বেসামরিক ক্ষতির পরিমাণ দেখায় যে, শান্তি প্রক্রিয়া এখনও বহু চ্যালেঞ্জের মুখে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, গাজা-হামাসের মধ্যে সশস্ত্র বিরতির ধারাবাহিকতা এবং লঙ্ঘনের পরিমাণই ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল বিষয় হবে। তুরস্ক, মিশর, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে লঙ্ঘন রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে হবে।

গাজা অঞ্চলে চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে, সশস্ত্র লঙ্ঘনের ফলে বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ। গাজা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শিবিরে থাকা শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৌলিক সেবা প্রদান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সারসংক্ষেপে, মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক বৈঠক গাজা-হামাসের সশস্ত্র বিরতির প্রথম ধাপের পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ ধাপের রোডম্যাপ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ইসরায়েলি লঙ্ঘনের উচ্চ সংখ্যা এবং সাম্প্রতিক বেসামরিক ক্ষতি শান্তি প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া গাজা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি অর্জন কঠিন বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments