দিল্লি, ২০ ডিসেম্বর – শনিবার রাত ৮:৩০ থেকে ৯ টার মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অফিস ‘বাংলাদেশ হাউস’ এর প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে একদল ভারতীয় নাগরিক সমাবেশ করে স্লোগান শোনায়। তিনটি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা দলটি বাংলা ও হিন্দি মিশ্রণে ‘হিন্দুদের রক্ষা করতে হবে’ এবং ‘বাংলাদেশে যদি ভারতীয় হাইকমিশনে আঘাত করা হয়, এখানে একই কাজ করা হবে’ ইত্যাদি দাবি করে। প্রথমে তারা প্রবেশদ্বারের বাইরে থেকে স্লোগান দেয়, পরে মূল দরজার কাছে এসে কিছুক্ষণ মৌখিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং তারপর এলাকাটি ত্যাগ করে।
হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার ফলে কোনো শারীরিক হামলা বা ভবনের দিকে কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা হয়নি। পরিস্থিতি মৌখিক উত্তেজনার সীমা ছাড়িয়ে যায়নি এবং সবকিছু স্বাভাবিক রয়ে গেছে। তাই উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে তারা উল্লেখ করেন।
প্রেস মন্ত্রী ফয়সল মাহমুদের মতে, হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে বাড়ানো ছিল। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ থেকে প্রায় চল্লিশজন সদস্য মিশনের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি দেখে প্রতিবাদকারীরা স্লোগান দেওয়ার পর দ্রুত সরে যায়।
বহুদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যও প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর পর থেকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনকে বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। উভয় দেশের সম্পর্ককে উন্নত করার ইচ্ছা রয়েছে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটবে না, তা তিনি জোর দেন।
উপদেষ্টা আরও জানান, হাইকমিশনারের সঙ্গে দু’পক্ষের আলোচনায় কিছু মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে ডেকা হয়েছে, তবে তাদের কিছু বিষয় গ্রহণ করা হয়নি; একইভাবে ভারতীয় হাইকমিশনারকেও ডেকা হয়েছে, যা সাধারণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। নতুন কোনো ধাপ শুরু হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতা স্বীকার করা হচ্ছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকি ও প্রতিবাদ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে কোনো বড় ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার পর, উভয় দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সংলাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। উভয় পক্ষই স্বাভাবিক কূটনৈতিক চ্যানেল বজায় রেখে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো সমাধান করতে চায়। ভবিষ্যতে কোনো বড় সংঘাত এড়াতে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে বলে আশা করা যায়।
দিল্লিতে এই ঘটনার পর, বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিরাপত্তা দল অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতিবাদে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষও জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংবেদনশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে। উভয় দেশের সরকারই এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অবাঞ্ছিত উত্তেজনা না বাড়ে।



