ব্রিটিশ মিডিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার জেসি লিংগার্ড, দুই বছর ধরে FC সিয়োলের হয়ে কোরিয়ান লিগে খেলেছেন এবং এখন নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে আছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় জানিয়েছেন, তিনি কোরিয়ান ভাষা শিখে দৈনন্দিন খাবারের সময় নিজেকে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার কোরিয়ান অভিযাত্রা শেষ হওয়ার পর, জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডো খুললে তিনি নতুন ক্লাবের দরজা খোলার কথা ভাবছেন।
লিংগার্ডের মতে, সিয়োলের জীবন তার জন্য ছোট ছোট বিষয়গুলোতে বড় চমক নিয়ে এসেছে। শহরের রাস্তায় মানুষ তার উপস্থিতিতে বিস্মিত হয়ে তৎক্ষণাৎ “লিংগার্ড, লিংগার্ড” বলে ডাকতে থাকে এবং ফটো তোলার জন্য থেমে যায়। তিনি এই ধরনের স্বাগতকে “অপ্রত্যাশিত কিন্তু আনন্দদায়ক” বলে বর্ণনা করেছেন।
খাদ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতায় তিনি বিশেষ করে একবার জীবন্ত অক্টোপাস খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমে চলমান প্রাণীর দৃষ্টিতে ভয় পেয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা স্বাদে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান। এই ধরনের স্থানীয় খাবার তার কোরিয়ান সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিয়োলের ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক কখনো কখনো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। গত মৌসুমে ধারাবাহিক পাঁচটি হোম ম্যাচে পরাজয়ের পর, ভক্তরা স্টেডিয়ামের বাইরে বাসকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখে এবং কোচকে সরাসরি কথা বলতে বাধ্য করে। লিংগার্ড এ ঘটনাকে “সিয়োলের বড় ক্লাব হওয়ায় প্রত্যাশা স্বাভাবিকই” বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সিয়োলের জন্যও জয় অর্জনের চাপ সর্বদা উপস্থিত। এই চাপের মুখে তিনি নিজের মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক সহনশীলতা বজায় রাখতে পারার কথা উল্লেখ করেছেন।
দুই বছর শেষে লিংগার্ড তার জন্মস্থানে, ওয়ারিংটনে ফিরে এসেছেন এবং পরিবারসহ ক্রিসমাস উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি পরিবারকে “বহু বছর পর আবার একসাথে সময় কাটাতে পারা” নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দিক নির্ধারণ করেননি, তবে ইউরোপ, সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাবের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। তার লক্ষ্য হল এমন একটি দল খুঁজে পাওয়া যেখানে তার আক্রমণাত্মক শক্তি ও সহনশীলতা কাজে লাগবে।
FC সিয়োলের শেষ চারটি ম্যাচে তিনি ধারাবাহিকভাবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন, যার সর্বশেষটি এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে মেলবোর্ন সিটির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হয়। এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন করেছে।
লিংগার্ডের কোরিয়ান অভিযাত্রা শেষ হলেও, তার পেশাদারিত্ব ও প্রতিযোগিতার তীব্রতা নতুন চ্যালেঞ্জে পুনরায় প্রকাশ পাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তার পরবর্তী গন্তব্য যাই হোক না কেন, তিনি তার উত্সাহ ও শারীরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



