দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেং প্রদেশের বেকার্সডাল শহরে রোববার দুপুরের কাছাকাছি এক পানশালায় গুলিবর্ষণ ঘটে, যার ফলে অন্তত নয়জনের মৃত্যু এবং দশজনের গুরুতর আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাস্থলটি শহরের পশ্চিমে অবস্থিত এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটিকে সশস্ত্র আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গুলিবর্ষণের সময় পানশালার মালিক ও আশেপাশের পথচারীরা লক্ষ্যবস্তু হয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশের মতে, রোববার রাত ১টার ঠিক আগে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। আক্রমণকারীরা সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস এবং রূপালি রঙের একটি সেডান গাড়ি ব্যবহার করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় বারোজন সন্দেহভাজন গুলিবর্ষণ চালায়। গুলি চালানোর পর তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে, তবে পালানোর পথে গুলিবর্ষণ চালিয়ে যায় বলে জানা যায়।
আক্রমণকারী দলের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনও অজানা, তবে তারা অজ্ঞাত ব্যক্তিরূপে বিবেচিত। গুলিবর্ষণের সময় পানশালার দরজা ও জানালায় গুলি হিট করে, ফলে ভিতরে বসে থাকা গ্রাহক ও কর্মচারীরা মারাত্মক আঘাত পায়। পানশালাটি সরকারীভাবে নিবন্ধিত ব্যবসা, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রিয় বিশ্রামস্থল হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালু করে। গুলিবর্ষণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং শহরের আশেপাশে গাড়ি ও ব্যক্তিগত অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে। গৌণভাবে, গাউতেং প্রদেশের পুলিশ কমিশনার ফ্রেড কেকানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সংগ্রহ করছেন।
কমিশনার কেকানা উল্লেখ করেন, “আমরা এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সব সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কেন্দ্রীয় অপরাধ ব্যবস্থাপনা টিমের সহায়তায় কাজ করছি।” তিনি জানান, তদন্তের প্রথম পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা প্রেরণা স্পষ্ট হয়নি, তবে গুলিবর্ষণের পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা থাকতে পারে।
প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়ে বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দশজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে এখনো সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন, “মৃত্যুজনিত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার জন্য ফরেনসিক দলকে পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
কয়েকটি স্থানীয় মিডিয়া প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা দশ বলে রিপোর্ট করলেও, পুলিশ পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে যে মৃত্যুর সংখ্যা নয়জন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই গুরুতর আঘাত পেয়ে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা সংস্থাগুলি জানান, আহতদের অবস্থার ভিত্তিতে তাদের জীবনরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ বা লক্ষ্য এখনও পরিষ্কার হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্রমণকারীরা পানশালার মালিক ও বাইরে থাকা পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তবে তাদের পেছনের রাজনৈতিক, অপরাধমূলক বা ব্যক্তিগত প্রেরণা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে গাড়ি সনাক্তকরণ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয় নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গৌণভাবে, গাউতেং প্রদেশের উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে জনসাধারণকে শান্ত থাকতে এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় ভয় না পেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই গুলিবর্ষণ দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধমূলক ঘটনার মধ্যে একটি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে।



