18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় ডিনের পদত্যাগপত্র প্রকাশ, আম্মার কল করে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় ডিনের পদত্যাগপত্র প্রকাশ, আম্মার কল করে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন

রাখসু ভবনের সামনে রবিবার সকালের শীতল বাতাসে রাকসু ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার উপস্থিতি জানান। তিনি ছয়টি অনুষদের ডিনদের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে, একে একে ফোনের মাধ্যমে ডিনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ক্যাম্পাসে ডিনদের কোনো উপস্থিতি না থাকায়, তিনি মিডিয়ার সামনে তাদের পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন।

পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত ডিনদের নাম হল: আইন অনুষদে আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদে নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ই.এস.এম. কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে এস.এম. একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদে বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূগোল-ভূবিজ্ঞান অনুষদে এ.এইচ.এম. সেলিম রেজা। প্রত্যেক ডিন ফোনে জানিয়ে দেন যে, তারা আর এই দায়িত্বে থাকতে ইচ্ছুক নয়।

পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই ২০২৫-এ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণ-অভ্যুত্থানের সময় ডিনদের কিছু সিদ্ধান্ত ও অবস্থান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বার্থের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ছিল। এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পত্রে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্বার্থ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার জন্য, ডিনরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

ডিনদের সঙ্গে ফোনে কথা শেষ করার পর, আম্মার রেজিস্ট্রারের সঙ্গে তীব্র তর্কে লিপ্ত হন। তর্কের সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি রাকসুর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক,” এবং তার রাজনৈতিক সংযুক্তি স্পষ্ট করেন। এই বিবৃতি তার আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সন্ধানের ইচ্ছাকে প্রকাশ করে।

ডিনদের কলের পর, আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মীদের সন্ধান করেন। প্রথমে তিনি ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে প্রবেশ করেন, যেখানে তিনি প্রাক্তন উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং প্রাক্তন সহ-উপাচার্য মো. সুলতান‑উল‑ইসলামকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তবে বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, উভয় নামের শিক্ষক বর্তমানে বিভাগে নেই।

বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলার পর, আম্মারকে জানানো হয় যে উক্ত শিক্ষকরা আর সেখানে কাজ করছেন না। এই তথ্য পাওয়ার পর তিনি বিভাগ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হন।

এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে অবস্থিত শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে যান, যেখানে সহকারী অধ্যাপক এন.এ.এম. ফয়সাল আহমেদকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তবে মিডিয়ার কাছে জানানো হয়, তিনি সেই মুহূর্তে ইনস্টিটিউটে উপস্থিত ছিলেন না।

মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় আম্মার উল্লেখ করেন, ছয়টি অনুষদে ডিনদের অনুপস্থিতি এবং তাদের পদত্যাগের পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।

ডিনদের অনুপস্থিতি এবং পদত্যাগের পত্রের প্রকাশের পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মীরা বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করে। কিছু শিক্ষার্থী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়, আবার কিছু শিক্ষক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এই ধরনের ঘটনা বিরল, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজনীয় বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।

এই ঘটনার পর, শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়: প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন, যাতে কোনো পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে সময়মতো জানার সুযোগ থাকে। এছাড়া, শিক্ষার্থী সংগঠন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখলে শিক্ষার পরিবেশে কোনো অস্বাভাবিকতা দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব।

সারসংক্ষেপে, রবিবার সকালে রাকসু ভবনের সামনে সালাহউদ্দিন আম্মার ছয়টি অনুষদের ডিনদের পদত্যাগের পত্র প্রকাশ করে, তাদের অনুপস্থিতি ও ফোনে প্রত্যাখ্যানের তথ্য জানিয়ে দেন। এরপর তিনি বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সন্ধান করেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা উপস্থিত না থাকায় অনুসন্ধান ব্যর্থ হয়। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments