ভারত সরকার সম্প্রতি আসাম রাজ্যের সীমান্তে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি স্থাপনের প্রচেষ্টা ও অবৈধ প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা ও রাজ্য পুলিশকে উচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে।
সতর্কতা জারির মূল কারণ হিসেবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরের সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়ে, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
আসাম ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সীমান্তে অতিরিক্ত পেট্রোলিং, নজরদারি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সীমান্ত পারাপারের সকল গেট ও চেকপয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘাঁটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রমকে নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়েছে। পূর্বে একই ধরনের প্রচেষ্টা সনাক্ত হয়ে, সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা সীমান্ত পারাপার, অস্ত্র সরবরাহ এবং গোপনীয় যোগাযোগের জন্য দায়ী ছিলেন।
আসাম ট্রিবিউনের সূত্রে বলা হয়েছে, যদিও বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে, তবু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। সীমান্তে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান, তাই নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।
সাইবার জগতে সক্রিয় থাকা জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যক্রমও নজরে আনা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা উল্লেখ করেছে, এই গোষ্ঠীগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার, তহবিল সংগ্রহ এবং সমন্বয়মূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সাইবার পর্যবেক্ষণে বিশেষ টিম গঠন করে, সন্দেহজনক আইপি ঠিকানা, অনলাইন চ্যাট রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই টিমের কাজের ফলস্বরূপ, কয়েকটি সন্দেহজনক নেটওয়ার্ক সনাক্ত হয়ে, তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনদের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে আদালতে হাজির করা হবে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত বিভাগ তাদের জড়িত কার্যক্রমের বিশদ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে, তথ্য শেয়ারিং ও যৌথ অভিযান চালু করা হয়েছে। এই সমন্বয়মূলক পদ্ধতি সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি কমাতে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করতে সহায়ক হবে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশে সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক গতি-প্রকৃতি, অচেনা গাড়ি বা ব্যক্তির উপস্থিতি দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আসাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা মোকাবিলায় গৃহীত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চলমান তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসী হুমকি দমন করা হবে বলে আশা করা যায়। নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়নই এই প্রচেষ্টার মূল চালিকাশক্তি।



