ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজ শেষ করার পর, বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামির বর্তমান আমীর শফিকুর রহমান আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাধি পার্কে উপস্থিত হয়ে শ্রীমতী ওসমান হাদীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছেন। এ অনুষ্ঠানে পার্টির উচ্চপদস্থ নেতা ও সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সচিব সাধারণ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পারওয়ার, সহকারী সচিব সাধারণ মাওলানা আবদুল হালিম, এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবাক্কর হোসেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন সাউথ ইউনিটের প্রতিনিধিত্ব করেন নায়েব‑এ‑আমীর অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন এবং সচিব শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং অফিস সচিব সিবগতুল্লাহ সিবগা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক এস.এম. ফারহাদ, পাশাপাশি অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মেট্রো সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে সমাবেশটি সম্পন্ন হয়।
সমাবেশে উপস্থিত সবাই সমাধিস্থ শ্রীমতী ওসমান হাদীর আত্মার শান্তি ও মুক্তির জন্য দোয়া করেন এবং তার শহীদিত্বের স্বীকৃতি চায়। দোয়া শেষে উপস্থিত সদস্যরা পারস্পরিক আলাপ ও সমন্বয় সভা করেন, যেখানে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সমাবেশের সময় পার্টির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গোষ্ঠী দুইটি গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসের প্রচার চালিয়ে দেশের বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায়ী ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্বে আনতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে পার্টি মিডিয়ায় ঘটমান অশান্তি ও অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
শফিকুর রহমানের এই সফর জামায়াতের শহীদ ও আত্মীয়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি পার্টির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে পুনর্ব্যক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ পার্টির তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমাবেশ পার্টির ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে। তবে পার্টি নেতারা জোর দিয়ে বলেন, সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য শ্রীমতী ওসমান হাদীর স্মৃতি রক্ষা এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করা।
এই সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতের নেতৃত্ব ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে পার্টির নীতি ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, মিডিয়ায় অশান্তি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান পার্টির আইনগত ও সামাজিক অবস্থানকে দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুর রহমানের এই সফর এবং সমাবেশটি জামায়াতের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে, পার্টির অভ্যন্তরীণ সংহতি ও বাহ্যিক রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।



