রাত ৫:৩০ টার দিকে রংপুরের পাটগ্রাম উপজেলার আঙ্গরপোতা সীমান্ত পোস্ট (বিওপি)‑এর নিকটবর্তী ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার‑১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল গরু পাচারকারীকে ধাওয়া করছিল। টহল দলের কনস্টেবল বেদ প্রকাশ (বডি নম্বর ২১৩৬০০১৭৮) শূন্য লাইন অতিক্রম করে প্রায় ৫০ থেকে ২০০ গজ দূরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
বিজিবি‑এর দায়িত্বশীল টহল দল ভোরের প্রায় সাড়ে পাঁচটায় অনুপ্রবেশকারীকে ধরা দিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। তল্লাশির সময় কনস্টেবল থেকে একটি ছোট বন্দুক, দুইটি গুলি, একটি বেতার সেট এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
দহগ্রাম ফাঁড়ির ইনচার্জ তাজিরুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশার কারণে বিএসএফ সদস্য গরু পাচারকারীকে অনুসরণ করার সময় সীমা অজান্তে অতিক্রম করে। তিনি যোগ করেন, আটক করার পর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
রংপুর‑৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল সেলিম আল‑দীন জানান, ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনবিঘা করিডোরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক করা বিএসএফ সদস্যকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে।
বিজিবি সূত্রের মতে, আটক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় পক্ষের মধ্যে টেলিফোনিক যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। যদিও সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো সংঘর্ষের লক্ষণ দেখা যায়নি।
এই ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করলে, ভারত‑বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ১৯৭২ সালের সীমান্ত চুক্তি এবং ২০১৫ সালের সীমান্ত প্রোটোকল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উভয় দেশ নিয়মিতভাবে সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে সমন্বয় মিটিং এবং তথ্য শেয়ারিং করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে একই অঞ্চলে গরু পাচার ও অবৈধ পারাপারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, সীমান্তে অনিচ্ছাকৃত অনুপ্রবেশের ঘটনা যদিও স্বল্পমেয়াদে তীব্রতা বাড়াতে পারে, তবে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় এবং প্রোটোকল অনুসরণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক মেকানিজমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার সুযোগ দেয় এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও তথ্য বিনিময়কে ত্বরান্বিত করতে পারে।
বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের পর, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে তারা ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট টহল দলকে যথাযথভাবে শাস্তি প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে, তারা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আটক সদস্যের দ্রুত এবং সুষ্ঠু প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে আঙ্গরপোতা পোস্টে পতাকা বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হবে, যেখানে দুই দেশের উচ্চতর কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রোটোকল অনুসারে সদস্যের প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করবেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়ে গরু পাচার ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি কমানোর জন্য যৌথ অভিযান চালু করা হবে।
সারসংক্ষেপে, ঘন কুয়াশা ও সীমান্তের জটিল ভূগোলিক অবস্থার কারণে একটি বিএসএফ কনস্টেবল অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, যা বিজিবি দ্রুত আটক করে এবং আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসারে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু করেছে। ঘটনাটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



