রেডিসন ব্লু হোটেলে রবিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উদযাপন সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার‑এর ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের জন্য সর্বোচ্চ দায়িত্বে রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী অক্ষমতা ও দুর্বলতা ‘মবতন্ত্র’কে সমর্থন দিয়েছে এবং তা কঠোরভাবে দমন করা জরুরি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা পূর্বাভাসে গোয়েন্দা রিপোর্টে ছিল, তবে তা কার্যকর করা হয়নি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব কী? শোনা যায় এক‑দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে, তবু কেন দেরি হল?”
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার‑এর ভবনকে জ্বালিয়ে ধ্বংস করা দৃশ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারিত হয়েছে, যা দেশের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সালাহউদ্দিন আহমদ এই পরিস্থিতিকে “জাতি হিসেবে লজ্জাজনক” বলে উল্লেখ করে বলেন, “এটি শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশে শেষ করা যায় না; আমাদের সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”
মিডিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “পত্রিকা সমাজের দর্পণ, কিন্তু এখন সেই দর্পণ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সাংবাদিকদের দর্পণ যেন আরও ভাঙে না, তা আমাদের লক্ষ্য।” তিনি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “ডেমোক্রেসি রক্ষা করা দরকার, মবোক্রেসি নয়।”
সালাহউদ্দিন আহমদ এছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে বলেন, “তার প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করতে চাই, ব্যক্তিগত ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, “ব্যক্তিতান্ত্রিক বা দলতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রকে আমরা সমর্থন করব না; আমাদের লক্ষ্য হল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ় করা।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা সকলেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের চেষ্টা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “যদি সরকার দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না, তবে ‘মবতন্ত্র’ আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দ্রুত সাড়া এবং গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহারকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্যের পর, উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারে এবং মিডিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। সালাহউদ্দিন আহমদ উত্তর দেন, “প্রতিটি সংস্থা, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনী, তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে এবং গোয়েন্দা তথ্যকে তাত্ক্ষণিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে দেশের স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি রক্ষা করা।”
বিএনপি নেতারা একমত যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সরকারকে কঠোরভাবে তদারকি করা এবং ‘মবতন্ত্র’কে দমন করা প্রয়োজন। তারা তর্ক করেন, সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম আরও নষ্ট হবে এবং অভ্যন্তরীণ অশান্তি বাড়বে।
সালাহউদ্দিন আহমদ শেষ করে বলেন, “গণতন্ত্রের শক্তি হল তার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার; আমরা তা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি উপস্থিত সকলকে আহ্বান জানান, “একসাথে কাজ করে আমরা দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে পারি।”
এই সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান, যেখানে সরকারী নীতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মিডিয়া স্বাধীনতার বিষয়গুলোকে কেন্দ্রে রাখা হয়।



