মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে দুজন ওপেনার একসাথে সেঞ্চুরি করায় টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি রেকর্ড গড়ে উঠেছে। টম ল্যাথাম ১৩৭ এবং ডেভন কনওয়ে ১০১ রান করে দুজনের সম্মিলিত ২৩৮ রানের জোড়া গঠন করে, যা টেস্টে কোনো দল কখনো না দেখেছে। এই বিশাল পারফরম্যান্সের পর নিউজিল্যান্ড ৪৬২ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে, যা পশ্চিম ইন্ডিজের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
পশ্চিম ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৬ উইকেটে ৩৮১ রানে শুরু হলেও, পরবর্তী ওভারে দ্রুত পতন ঘটায় এবং শেষ পর্যন্ত ৪২০ রানে শেষ করে। টেস্টের প্রথম দিনেই তাদের ব্যাটিং লাইন‑আপের বেশিরভাগই দ্রুত গৃহীত হয়, ফলে লক্ষ্য রানের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৩০৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, ফলে লক্ষ্য রানের ঘাটতি আরও কমে যায়।
পশ্চিম ইন্ডিজের চতুর্থ দিন ১৬ ওভারে ৪৩ রানে শেষ করে, কোনো উইকেট না হারিয়ে। ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ৩৭* এবং জন ক্যাম্পবেল ২* রানে অব্যাহত রাখে, তবে লক্ষ্য রানের পরিমাণ এখনও অনেক বেশি। পিচে অসমান বাউন্স দেখা গেছে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পঞ্চম দিনে কাজটা আরও কঠিন হবে, কারণ লক্ষ্য রানের পরিমাণ এখনও ৪৬২, যা সহজে অর্জনযোগ্য নয়।
পশ্চিম ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে কাভেম হজ ১২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন, তবে তার পরের অংশীদাররা যথেষ্ট রান যোগ করতে পারেনি। অ্যান্ডারসন ফিলিপ, শাই হোপ, জেইডেন সিলস এবং ক্যামের রোচ প্রত্যেকেই ৩৯ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি, ফলে হজের একা রানের পরিমাণ দলকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারেনি।
নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনার জুটি ১৯১ রান যোগ করে, যার মধ্যে কনওয়ে ১০১ এবং ল্যাথাম ১০০ রানে অবদান রাখে। হজের ২/১০০ বলিং পারফরম্যান্সের পরেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপ শক্তিশালী থাকে। কেইন উইলিয়ামসন ও রাচীন রবীন্দ্র ৩৭ করে ৭২ রানের জুটি গঠন করে, যেখানে উইলিয়ামসন ৪০ এবং রবীন্দ্র ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরে নিউজিল্যান্ড ৫৭৫/৮ এবং ৩০৬/২ রানে শেষ করে, যেখানে কনওয়ে ১০১ এবং ল্যাথাম ১০০ রানে অবদান রাখে, এবং হজ ২/১০০ বলিং পারফরম্যান্স দেখায়। পশ্চিম ইন্ডিজ ৪২০ এবং ৪৩/০ রানে শেষ করে, যার মধ্যে কিং ৩৭* এবং ক্যাম্পবেল ২* রানে অবদান রাখে, এবং ডাফি ০/১৮ বলিং পারফরম্যান্স দেখায়।
এই টেস্টের ফলাফল নিউজিল্যান্ডের জন্য একটি বড় আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে, বিশেষ করে তাদের ওপেনার জুটির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর। পশ্চিম ইন্ডিজের জন্য এখন লক্ষ্য রানের পরিমাণ পূরণ করা কঠিন কাজ, বিশেষ করে পিচের অবস্থা এবং ব্যাটসম্যানদের ফর্ম বিবেচনা করে। পঞ্চম দিনে যদি পশ্চিম ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন‑আপ শক্তিশালী না হয়, তবে টেস্ট ড্রের সম্ভাবনা কমে যাবে।
মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের পরবর্তী দিনগুলোতে উভয় দলের কৌশলগত পরিবর্তন এবং পিচের অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপের ধারাবাহিকতা এবং পশ্চিম ইন্ডিজের বলার দক্ষতা টেস্টের ফলাফল নির্ধারণে মূল উপাদান হবে।



