28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যশোম্যান কাইন্ডনেস অ্যাওয়ার্ডে সিআরপি প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেলর ও জাপানের মোরালজি ফাউন্ডেশনকে...

শোম্যান কাইন্ডনেস অ্যাওয়ার্ডে সিআরপি প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেলর ও জাপানের মোরালজি ফাউন্ডেশনকে সম্মান

শোম্যান ফাউন্ডেশন কর্তৃক শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজন করা আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে ‘শোম্যান কাইন্ডনেস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে মানবিক সেবা ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

কংগ্রেসের উদ্বোধন বধির, অন্ধ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবেশিত জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে করা হয়, যা অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি ও সমতা প্রকাশ করে।

অভিনন্দন পাওয়া যায় সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেলরকে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে কাজ করছেন। তিনি ১৯৪৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের কেন্টের ব্রোমলিতে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬৯ সালে তিনি আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অন দ্য চার্টার্ড সোসাইটি অব ফিজিওথেরাপির ফেলো হিসেবে প্রথমবার বাংলাদেশে আসেন এবং পার্বত্য চন্দ্রঘোনার খ্রিস্টান হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে সেবা প্রদান করেন।

১৯৭৩ সালে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। দুই বছর পর, ১৯৭৫ সালে আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে পুনর্বাসন কাজ চালিয়ে যান।

১৯৭৯ সালে সিআরপিতে প্রথম রোগী ভর্তি হয় এবং একই বছর থেকে তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে সিআরপি হাসপাতালের প্রাঙ্গণে দুটি সিমেন্টের স্টোররুমে পরিচালিত হতো।

১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সিআরপি স্থায়ীভাবে সাভারের একটি সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে আজকের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এই স্থানান্তর সেবা বিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভ্যালেরি টেলরের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৯৫ সালে তাকে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (OBE) প্রদান করা হয়। পরের বছর তিনি আর্থার আই. আর. ব্রুক স্বর্ণপদক পান এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৯৮ সালে তাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, যা তার দেশের প্রতি নিবেদনকে আরও দৃঢ় করে। তিনি পপি এবং জ্যোতি নামে দুই বাংলাদেশি মেয়ের আইনি অভিভাবক এবং বর্তমানে পপির সঙ্গে সিআরপি-সাভার ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বসবাস করেন।

জ্যোতি ২০০৭ সালে বিবাহিত হন এবং সিআরপিতে কর্মরত আছেন, যা পরিবারিক ও পেশাগত সমন্বয়কে তুলে ধরে।

একই অনুষ্ঠানে জাপানের মোরালজি ফাউন্ডেশনকে ‘শোম্যান কাইন্ডনেস লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এই ফাউন্ডেশন ১৯২৬ সালের আগস্টে ড. চিকুরো হিরোইক প্রতিষ্ঠা করেন এবং নৈতিকতা ও নৈতিক শিক্ষার গবেষণায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।

মোরালজি ফাউন্ডেশন জাপানের একটি গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা হিরোইকের বিকশিত ‘মোরালজি’ নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এই নীতি মানবিক আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে সহায়তা করে।

অভিনন্দন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পেশাজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা মানবিক সেবা, নৈতিকতা ও সুখের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করেন।

শোম্যান ফাউন্ডেশন এই ধরনের আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের মাধ্যমে মানবিক কাজের গুরুত্ব বাড়াতে এবং সমাজে দয়া ও নৈতিকতার প্রচার করতে চায়।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মানিত করা এবং তাদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষকে সামাজিক দায়িত্ব ও মানবিক সেবায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments