মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গাজা ও ইসরায়েল মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে গাজার জন্য একটি নতুন শাসন ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন। এই কাঠামোতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের একটি বোর্ড এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংস্থা থাকবে, যার পরপরই আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সৈন্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রুবিও উল্লেখ করেন, প্রথম ধাপের কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে “বোর্ড অব পিস” গঠন এবং মাঠে কাজ করার জন্য ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত। এই সংস্থার সদস্যরা রাজনৈতিক দল নয়, বরং কারিগরি দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে। এরপরই স্থিতিশীলতা বাহিনীর সৈন্যদের গাজায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক দলের গঠনেও অগ্রগতি হয়েছে বলে রুবিও জানান। তিনি বলেন, গাজার বাসিন্দাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে শাসন কাঠামোতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র গাজার নতুন শাসন ব্যবস্থাকে শীঘ্রই কার্যকর করতে চায়, যা গাজার নাগরিকদের জন্য রাজনৈতিক দলভিত্তিক নয়, দক্ষতা-ভিত্তিক কাজের পরিবেশ তৈরি করবে।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রুবিও স্বীকার করেন যে নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব কার ওপর হবে বা কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সৈন্য পাঠাতে ইচ্ছুক দেশগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, হামাস সরাসরি তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে।
গাজার নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক দাতাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে রুবিও জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ইসরায়েলি বোমা আঘাতে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ছয়জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৪০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলও গাজার ওপর হামাসের অব্যাহত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে গাজায় তাদের তিনজন সৈন্য নিহত হয়েছে। এই তথ্যগুলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগকে তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে গাজার নতুন শাসন কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সেনা মোতায়েনের সফলতা গাজার স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি হবে। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে যায়, তবে গাজার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে, আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং সংঘাতের পুনরায় উত্থান ঘটতে পারে।
এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি গাজার জনগণের জীবনযাত্রা, ইসরায়েলি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং উভয় পক্ষের স্বচ্ছতা গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



