20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগোপীবাগে ২০১৩ সালের ছয়জনের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক দশক, সিআইডি রিপোর্টের শেষ তারিখ...

গোপীবাগে ২০১৩ সালের ছয়জনের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক দশক, সিআইডি রিপোর্টের শেষ তারিখ নির্ধারিত

২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোপীবাগে একটি ঘরে স্ব-স্বীকৃত ধর্মীয় নেতা পীর লুৎফর রহমান ফারুকসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে। একই রাতে তার পুত্র আব্দুল্লাহ আল ফারুক ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

প্রাথমিক তদন্তে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জড়িত ছিল, তবে পরে দায়িত্ব সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থা এখন পর্যন্ত ১৪৭ বার সময়সীমা অতিক্রম করে রিপোর্ট দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করেন। এই নির্দেশনা প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সোয়ানুজ্জামান জানিয়েছেন।

সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, মামলাটি বহু বছর পুরোনো হওয়ায় এখনও চলমান। তিনি বাদীকে ডেকেছেন, অন্যান্য সাক্ষীর কথাও সংগ্রহ করেছেন এবং তদন্তে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।

আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং তিনি ১২ বছর পরেও কোনো ফলাফল দেখেননি। তিনি অতীতের তদন্তকারী কর্মকর্তার কথায় উল্লেখ করেন, কিছু সন্দেহভাজনকে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।

তবে বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদী কোনো উপস্থিতি নেই বলে দাবি করে, পূর্বের সরকারের এই মামলাকে রাজনৈতিক নাটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাদীর অভিযোগে জোরালো ন্যায়বিচার প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ আছে, লুৎফর রহমান ফারুক নিজেকে ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি বলে দাবি করতেন এবং তার ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচলিত ধারার থেকে ভিন্ন ছিল। এই পার্থক্যের ফলে তার বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় বহুবার হামলার প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

বিবিরবাগিচায় তার ওপর একবার সরাসরি হামলা চালানো হয় এবং গেন্ডারিয়া ও গোপীবাগে একই রকম আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। এই ঘটনাগুলি তার নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।

মামলার সময়সূচি অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রায় দশ থেকে বারোজন লোক ধর্মীয় আলোচনার জন্য তার বাড়িতে উপস্থিত হয়। তিনি তাদের দরবার ঘরে বসতে দিয়ে খাবার সরবরাহ করেন, যা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য তথ্য হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম ও ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তদন্তকারী সংস্থা তাদের সাক্ষ্য সংগ্রহে নিয়োজিত। বর্তমানে সিআইডি অতিরিক্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে।

আব্দুল্লাহ আল ফারুকের মতে, পূর্বের তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত কয়েকজন সন্দেহভাজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তবে বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এই স্বীকারোক্তিগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আছেন।

মামলার শেষ রিপোর্টের সময়সীমা নির্ধারিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এখনো তদন্তের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে। বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এই মামলায় মূল চাহিদা হিসেবে উঠে এসেছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments