20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামহিলা ক্রীড়া সংস্থায় যৌন হয়রানির অভিযোগে লিখিত অভিযোগের আহ্বান ও তদন্তের বিলম্ব

মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় যৌন হয়রানির অভিযোগে লিখিত অভিযোগের আহ্বান ও তদন্তের বিলম্ব

গুলশানের নিজের চেম্বারে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজের সঙ্গে বহু নারী ক্রীড়াবিদ মৌখিকভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ শেয়ার করেছেন। তারা নাম প্রকাশ না করে নিজেকে খেলোয়াড় বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং লিখিত রূপে অভিযোগ জমা দিতে চেয়েছেন। সংস্থার দায়িত্বশীলদেরকে এই অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের অভিযোগ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সারওয়াত সিরাজ গুলশানে এক সাক্ষাৎকারে জানান, জাহানারা আলমের অভিযোগের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খেলোয়াড়রা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অভিযোগকারী খেলোয়াড়দের সংখ্যা নির্দিষ্ট না করলেও চার‑পাঁচটি খেলাধুলার অন্তত ডজনখানেক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এধরনের ফোন পেয়েছেন। তবে কোন খেলাধুলা তা তিনি প্রকাশে অনিচ্ছুক।

খেলোয়াড়দের বেশ কয়েকজন জোর দিয়ে বলেছেন যে, তারা এই বিষয়টি ফেডারেশনে সরাসরি উত্থাপন করতে চান না। তারা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে একটি অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে অভিযোগ জমা দিতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে সিরাজ তাদেরকে লিখিত, স্পষ্ট এবং প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা যায়।

জাহানারা আলমের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল ইসলামের যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে ছিল বিসিবির পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। এই কমিটিকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল, তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। সূত্র অনুযায়ী, রিপোর্ট সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।

একই সময়ে, নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের তদন্তেও একই কমিটি দায়িত্বে ছিল। এখানে ও ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার সময়সীমা পূরণ করা যায়নি, ফলে তদন্তের অগ্রগতি ধীর হয়েছে।

হাইকোর্ট ২০০৯ সালে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য একটি নীতিমালা জারি করেছিল, তবে ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থাগুলো তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। এই ঘাটতি নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ১০ নভেম্বর একটি প্রতিবেদনের পর সব ফেডারেশনকে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে অভিযোগ কমিটি গঠন করতে চিঠি পাঠায়। এরপর বেশিরভাগ ফেডারেশনই সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করেছে।

সারওয়াত সিরাজ, যিনি যৌন হয়রানি বিরোধী আইন প্রণয়নে যুক্ত, বলেন যে লিখিত অভিযোগ পাওয়া প্রথম ধাপ এবং তা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের অভিযোগ কমিটিতে পাঠানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে লিখিত রূপে স্পষ্ট বিবরণ এবং প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা এখন থেকে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের অভিযোগ কমিটিতে পাঠাবে, যাতে যথাযথ তদন্ত এবং পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সংস্থার এই উদ্যোগটি হাইকোর্টের নীতিমালা অনুসরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির রিপোর্টের বিলম্বের ফলে অভিযোগকারী খেলোয়াড়দের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সংস্থার নতুন প্রক্রিয়া এবং লিখিত অভিযোগের আহ্বান এই সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ফেডারেশনকে হাইকোর্টের নীতিমালা মেনে দ্রুত অভিযোগ কমিটি গঠন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অবশেষে, নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যৌন হয়রানির শিকারদের সঠিক সহায়তা দিতে আইনগত কাঠামো ও সংস্থার কার্যকরী পদক্ষেপের সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমান প্রক্রিয়ার উন্নতি এবং সময়মত তদন্তই ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মূল চাবিকাঠি হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments