ইল্যান্ড রোডে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিডস ইউনাইটেড ২-১ স্কোরে ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে। ডমিনিক ক্যালভার্ট‑লিউইন দু’টি গোলের মাধ্যমে দলকে জয় এনে দেয় এবং ২২ বছরের পর প্রথম লিডসের ফরোয়ার্ড হিসেবে ধারাবাহিক পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড পুনরায় গড়ে তোলেন। এই ফলাফলে লিডসের রিলিগেশন জোন থেকে ছয় পয়েন্টের নিরাপদ দূরত্ব তৈরি হয়।
ক্যালভার্ট‑লিউইনের এই ধারাবাহিকতা ২০০৩ সালে মার্ক ভিদুকা অর্জন করা রেকর্ডের সমতুল্য, যিনি একই সময়ে পাঁচটি ম্যাচে স্কোর করে তার দলকে শীর্ষ লিগে রক্ষা করেছিলেন। লিডসের নতুন সাইনিং, যিনি গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় বেকার ছিলেন, ক্রিসমাসের সময় প্রায় চল্লিশ হাজার ভক্তের গুঞ্জনে নাম শুনে অবাক হয়েছিলেন। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে লিডসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করার পর তিনি দ্রুতই দলের আক্রমণাত্মক শক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
লিডসের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে ক্যালভার্ট‑লিউইনের বর্তমান ফর্মকে “লাল‑গরম” বলে বর্ণনা করেন এবং তাকে ইংল্যান্ডের সেরা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে এক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফার্কে জোর দিয়ে বলেন, ক্যালভার্ট‑লিউইন যখন ফিট থাকেন, তখন তার গুণমান স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে পুরো মৌসুমে লিডসের জন্য শীর্ষমানের খেলোয়াড় হতে পারেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, গুণমানের প্রশংসা কয়েক সপ্তাহের পারফরম্যান্সের ওপর নয়, বরং পুরো সিজনের ধারাবাহিকতা থেকে নির্ধারিত হয়।
ম্যাচের শুরুর দিকে ক্রিস্টাল প্যালেস টেম্পো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে লিডসের শারীরিক শক্তি এবং সেট‑পিসের ব্যবহার তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না। প্যালেসের খেলোয়াড়রা মাত্র নয়টি ম্যাচে ছয় বিশ দিন খেলতে হয়, যা তাদের শারীরিক ক্ষমতাকে সীমিত করে। লিডসের কোচ অলিভার গ্লাসনারের দল ১১ জন খেলোয়াড়ে পরিবর্তন আনে, যা পূর্বের কুয়াপসের সঙ্গে ড্রয়ের পরের পরিবর্তন। গ্লাসনারের উদ্বেগের মধ্যে একটি মুহূর্ত আসে যখন মার্ক গুইহি ও ক্যালভার্ট‑লিউইনের মাথা ধাক্কা খায়, তবে দুজনই খেলায় ফিরে আসেন।
লিডসের সেট‑পিস পরিকল্পনা ম্যাচের শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। ইথান অ্যাম্পাডু দীর্ঘ থ্রো দিয়ে প্যালেসের ডিফেন্সকে অস্থির করে, যা তৃতীয় গোলের দিকে নিয়ে যায়। একই সময়ে, জো রডনকে লম্বা থ্রো দিয়ে পেনাল্টি বক্সের প্রান্তে পাঠানো হয়, তবে তার শট পাশের দিকে যায়। রডনের শটের ফলস্বরূপ কোণার সুযোগ তৈরি হয়, যেখানে ওয়েলশ সেন্টার‑ব্যাক জো রডন নিজেই হেড করে গোলের সম্ভাবনা বাড়ায়।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে লিডসের আক্রমণাত্মক চাপ বাড়ে, এবং ক্যালভার্ট‑লিউইনের দ্বিতীয় গোল দলকে নেতৃত্ব দেয়। প্যালেসের প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট না হয়ে, তারা শেষ পর্যন্ত এক গোলের পার্থক্যে পরাজিত হয়। এই জয় লিডসের রিলিগেশন ঝুঁকি থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, এবং ক্যালভার্ট‑লিউইনের ধারাবাহিক গোলের রেকর্ড দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা দেয়।
লিডসের পরবর্তী ম্যাচে তারা রিলিগেশন জোন থেকে দূরে থাকতে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, যদিও নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। কোচ ফার্কে এবং তার দল এখন পর্যন্ত অর্জিত ফলাফলকে ভিত্তি করে সিজনের বাকি অংশে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রাখবে।



