19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনকেট উইনসেট মিডিয়া আক্রমণ কীভাবে সামলালেন: টাইটানিকের পরের সংগ্রাম ও স্বস্তির পদ্ধতি

কেট উইনসেট মিডিয়া আক্রমণ কীভাবে সামলালেন: টাইটানিকের পরের সংগ্রাম ও স্বস্তির পদ্ধতি

ব্রিটিশ অভিনেত্রী কেট উইনসেট টাইটানিক চলচ্চিত্রের বিশাল সাফল্যের পর মিডিয়া আক্রমণের মুখে কীভাবে নিজেকে সামলেছেন, তা সম্প্রতি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, চলচ্চিত্রের মুক্তির পর থেকে পাপারাজি তার পেছনে ছুটে বেড়াত, ফোনে ট্যাপ করা হতো এবং এমনকি তার বাড়ির ডাস্টবিনে কী আছে তা জানার জন্য দোকানদারদের জিজ্ঞাসা করা হতো। এই ধরনের অনুপ্রবেশকে তিনি “ভয়ানক” এবং “ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছেন।

পরবর্তী সময়ে তার বিবাহবিচ্ছেদের সময়ও মিডিয়া তার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করে। সেই সময় তিনি নিজের মানসিক শান্তি বজায় রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতি গ্রহণ করেন: সুস্বাদু খাবার, ঘনিষ্ঠ আলাপ, এক কাপ গরম কফি, রেডিওহেডের সঙ্গীত এবং নিয়মিত শৌচাগার ব্যবহার। তিনি উল্লেখ করেন, এই ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো জীবনের গুণগত মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

টাইটানিকের শ্যুটিং চলাকালে, যখন তিনি তার কিশোর বয়সে ছিলেন, তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। তিনি স্বীকার করেন, চলচ্চিত্রের শ্যুটিংয়ের সময় তার শরীরের চেহারার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ে। চলচ্চিত্রটি যখন বড় পর্দায় প্রকাশিত হয়, তার জীবন সম্পূর্ণভাবে উল্টে যায় এবং তিনি নিজেকে অপ্রস্তুত বোধ করেন।

শৈশব থেকেই কেটের শারীরিক চেহারার ওপর সমালোচনা শোনা গিয়েছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে সহপাঠীরা “ব্লাবার” বলে ডেকেছিল এবং পরে এক নাট্যশিক্ষক তাকে বলেছিলেন, যদি তিনি অভিনেত্রী হতে চান তবে “মোটা মেয়ের ভূমিকা”ই পাবেন। এই ধরনের মন্তব্য তার আত্মসম্মানকে প্রভাবিত করেছিল এবং তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করেছে।

বয়স ১৫ থেকে ১৯ পর্যন্ত তিনি ডায়েটের চক্রে ছিলেন; কখনো কখনো খাবার বাদ দিয়ে কেবলমাত্র হালকা খাবারই গ্রহণ করতেন। তিনি স্বীকার করেন, এই সময়ের ডায়েটিং পদ্ধতি সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ছিল এবং তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

টাইটানিকের মুক্তির পর, কেটকে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনের কভারে দেখা যায়, তবে তার নামের সঙ্গে প্রায়ই অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক শব্দ যুক্ত থাকত। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে তার ফোনে ট্যাপ করা হতো, পাপারাজি সর্বত্র উপস্থিত থাকত এবং তিনি রাতে ঘুমাতে গিয়ে ভয় পেতেন।

মিডিয়া আক্রমণের ফলে তিনি একাকী বোধ করতেন এবং ঘুমাতে গিয়ে অশান্তি অনুভব করতেন। তবে এই কঠিন সময়ে তার কাছের বন্ধু ও আত্মীয়দের সমর্থন তাকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। বিশেষ করে, তার বাড়ির পাশের একটি দম্পতি প্রায়ই তাকে গরম পাস্তা ও এক গ্লাস লাল ওয়াইন দিয়ে উপহার দিত, যা তার মানসিক ভার কমাতে সাহায্য করত।

কেটের মতে, এই ধরনের ছোট ছোট মানবিক দয়ার কাজগুলোই তাকে মিডিয়া আক্রমণের মুখে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনের ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো—একটি ভালো খাবার, বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, সঙ্গীতের সুর এবং শারীরিক স্বস্তি—ই মানুষকে কঠিন সময়ে শক্তি দেয়।

আজও তিনি মিডিয়া আক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা শিল্পীদের জন্য সমর্থন ও সহানুভূতির আহ্বান জানান। তার অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে, সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সচেতনতা এবং আত্ম-যত্নের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments