৭ ডিসেম্বর বেনিনে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, বিদ্রোহের নেতা লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাস্কাল টিগ্রি সীমান্ত অতিক্রম করে টোগোর দিকে পলায়ন করেন। সূত্র অনুযায়ী, তিনি টোগোর সীমান্ত পার হয়ে তৎকালীন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পেতে পারেন, সম্ভবত বুর্কিনা ফাসোর ওয়াগাদুগু বা নাইজারের নায়েমি শহরে। টোগোর প্রেসিডেন্ট ফৌরে গ্নাসিংবে এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রকাশ না করলেও, তার সরকার টোগোর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে।
গ্নাসিংবে নেতৃত্বাধীন টোগো, ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী অংশীদারিত্বের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ৩০ অক্টোবর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাক্রন টোগোর প্রেসিডেন্টকে এলিসে প্যালেসে স্বাগত জানান, যেখানে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার আলোচনা হয়। তবে তিন সপ্তাহের কম সময়ে গ্নাসিংবে মস্কো ভ্রমণ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুজন নেতার মধ্যে রাশিয়ার নৌবাহিনীর জন্য টোগোর লোমে বন্দর ব্যবহার করার অনুমোদনসহ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। লোমে বন্দর পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম আধুনিক গভীর জলের বন্দর, যা সামরিক ও বাণিজ্যিক সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।
টোগোর এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক নীতি ইকোয়াসের (ECOWAS) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। বেনিনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস ট্যালন, যিনি টোগোর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ সীমিত রাখেন, টিগ্রির পালিয়ে যাওয়াকে টোগোর সহায়তা হিসেবে দেখছেন। তবে টোগো সরকার এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, যা গ্নাসিংবে’র কূটনৈতিক কৌশলের অংশ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। একই সঙ্গে, টোগো বুর্কিনা ফাসো, নাইজার এবং মালির সামরিক শাসনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে, যারা জানুয়ারিতে ইকোয়াস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় টোগোর জন্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করছে।
ফ্রান্সের সঙ্গে টোগোর ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের ওপর রাশিয়ার নতুন সহযোগিতা একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করছে, যা টোগোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক বিকল্প প্রদান করে। গ্নাসিংবে স্পষ্টভাবে ফ্রান্সকে জানিয়েছেন যে টোগোর কূটনৈতিক বিকল্প সীমিত নয়, এবং লোমে বন্দরকে রাশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীর জন্য উন্মুক্ত করা এই বার্তাটিকে শক্তিশালী করে। এই পদক্ষেপের ফলে টোগোর অর্থনৈতিক সুবিধা, বিশেষ করে বন্দর ব্যবহারের ফি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চুক্তি, বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, টোগোর দ্বিপাক্ষিক নীতি ভবিষ্যতে ইকোয়াসের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে। যদি টোগো রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দেয়, তবে ইকোয়াসের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য টোগোকে তার নীতি সমন্বয় করতে হতে পারে, যাতে ফরাসি বিনিয়োগ ও সহায়তা হারিয়ে না যায়।
সামগ্রিকভাবে, টোগোর কূটনৈতিক চালনা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার প্রচেষ্টা, যেখানে ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা অংশীদার এবং নতুন রাশিয়ান সহযোগিতার মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। এই কৌশল টোগোর আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংহতি ও ইকোয়াসের সমন্বয়কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে টোগোর এই দ্বিমুখী নীতি কীভাবে বিকশিত হবে এবং অন্যান্য পশ্চিম আফ্রিকান দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থানে কী প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



