20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগুগল ও অ্যাপল হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প না থাকা কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে...

গুগল ও অ্যাপল হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প না থাকা কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিল

গুগল এবং অ্যাপল তাদের কর্মীদের জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের জন্য হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প প্রয়োজনীয় এমন কর্মীরা বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিত। এই নির্দেশনা দুইটি অভিবাসন আইন সংস্থার মেমোতে উল্লেখিত হয়েছে, যা ব্যবসা সংবাদ সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়িত সময় এবং অনির্দেশ্য দেরি কর্মীদের পুনরায় দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

গুগলের প্রতিনিধিত্বকারী BAL ইমিগ্রেশন ল’ এবং অ্যাপলের প্রতিনিধিত্বকারী ফ্র্যাগোমেন উভয়ই মেমোতে একই রকম সতর্কতা প্রকাশ করেছে। মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প না থাকা কর্মীরা এখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ না করার জন্য দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সতর্কতা বিশেষভাবে সেই কর্মীদের লক্ষ্য করে, যারা ভিসা নবায়ন বা পুনঃস্ট্যাম্পের জন্য বিদেশে যেতে চান।

ফ্র্যাগোমেনের মেমোতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক আপডেট এবং অনির্দেশ্য দেরি সম্ভাবনা বিবেচনা করে, হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প না থাকা কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্রও একই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, এখন সব দূতাবাসে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার সময় সম্পূর্ণ যাচাইয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন ভিসা প্রক্রিয়ার গতি ধীর করে তুলেছে।

সালন ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় পেশাজীবীরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের কাজের ভিসা নবায়নের জন্য বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, তখন তাদের অনেকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল বা পুনঃনির্ধারিত হয়েছে। এই বাতিলের মূল কারণ নতুন সামাজিক মিডিয়া যাচাই প্রক্রিয়া, যা দূতাবাসে অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ প্রয়োজন করে। ফলে হাজারো কর্মীর ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে।

গুগল ও অ্যাপল ছাড়াও, সিলিকন ভ্যালির বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি একই ধরনের সতর্কতা প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে হোয়াইট হাউস হ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় $১০০,০০০ ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল, যা কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে ফেলেছে। এই নতুন ফি এবং ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা কর্মীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ও কাজের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলছে।

হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প না থাকা কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শের ফলে কোম্পানিগুলোর মানবসম্পদ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। কর্মীদের ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে অভ্যন্তরীণ সমর্থন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে, কোম্পানিগুলোকে ভিসা প্রক্রিয়ার অপ্রত্যাশিত দেরি মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সতর্কতা প্রযুক্তি সেক্টরের কর্মশক্তি গতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করা বা বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে সরাসরি মিটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকা কর্মীরা ভিসা সমস্যার কারণে কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারেন। ফলে প্রকল্পের ডেলিভারির সময়সীমা বাড়তে পারে এবং কোম্পানির আয়েও প্রভাব পড়তে পারে।

অধিকন্তু, ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়িত সময়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের ইচ্ছা কমে যেতে পারে। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একই কোম্পানিতে থাকতে পছন্দ করবেন, যা ট্যালেন্টের বাজারে সরবরাহের ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে।

কোম্পানিগুলো এখন ভিসা প্রক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। কর্মীদের ভিসা নবায়নের সময়সীমা, প্রয়োজনীয় নথি এবং সম্ভাব্য দেরি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া, আইনি পরামর্শদাতা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও ভিসা প্রক্রিয়ার পরিবর্তন প্রযুক্তি শিল্পের কর্মশক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং খরচ বৃদ্ধি পায়, তবে কোম্পানিগুলোকে বিদেশি ট্যালেন্ট আকর্ষণের জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। অন্যদিকে, ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বাড়লে আন্তর্জাতিক কর্মশক্তির গতিবিধি স্থিতিশীল হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, গুগল ও অ্যাপল তাদের কর্মীদের হ-১বি ভিসা স্ট্যাম্প না থাকলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে, যা ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়িত সময় এবং নতুন সামাজিক মিডিয়া যাচাইয়ের ফলে উদ্ভূত হয়েছে। এই সতর্কতা প্রযুক্তি সেক্টরের মানবসম্পদ নীতি, প্রকল্পের সময়সূচি এবং বাজারের গতিবিধিতে প্রভাব ফেলবে। কোম্পানিগুলোকে এখন ভিসা ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কর্মশক্তির স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments