জেমস ক্যামেরনের নতুন ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ছবিতে সিগৌনি উইভার আবার নায়িকার ভূমিকায় উপস্থিত হয়েছেন। তিনি ১৪ বছর বয়সী কিরি চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি জেক ও নেয়তিরি (স্যাম ওর্থিংটন ও জো স্যালডানা) দত্তক নেয়া মেয়ে। এই ছবিতে তিনি প্যান্ডোরার মানব কিশোর স্পাইডার (জ্যাক চ্যাম্পিয়ন) সঙ্গে রোমান্সের সূচনা করেন।
উইভার তার ক্যারিয়ার শুরু করেন ‘এলিয়েন’ সিরিজের রিপ্লি চরিত্রে, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি এনে দেয়। তিনবারের ওস্কার মনোনয়ন সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই ধরণের চরিত্রে আটকে থাকা থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ভিন্ন ভিন্ন সহায়ক ভূমিকায় সফলতা অর্জন করেছেন, যেমন পল শ্রেডারের ‘মাস্টার গার্ডেনার’ এবং ব্রায়ান ফুলারের ‘ডাস্ট বানি’ তে।
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’‑এ কিরি হিসেবে তার পারফরম্যান্স শারীরিক ও আবেগগতভাবে উভয়ই চ্যালেঞ্জিং। ছবির শেষের দিকে তিনি প্যান্ডোরার ‘আইয়াওয়া’—মহা মা শক্তির বংশধর হিসেবে নিজের পরিচয় জানেন। এই প্রকাশ তার চরিত্রকে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা প্রদান করে, যা পরবর্তীতে গল্পের মোড় পরিবর্তন করে।
কিরি এবং স্পাইডারের সম্পর্ক ছবিতে তরুণ প্রেমের সূক্ষ্ম ছোঁয়া যোগ করে। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও আকর্ষণ কাহিনীর মানবিক দিককে উজ্জ্বল করে। এই উপকথা প্যান্ডোরার জটিল সমাজে মানব ও নেভি-নেটিভের মেলবন্ধনকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।
চূড়ান্ত সংঘাতে কিরি তার নতুন পাওয়া শক্তি ব্যবহার করে মাংকওয়ান গোষ্ঠীর নেতা ভারাং (উনা চ্যাপলিন) কে পরাজিত করেন। ভারাং দীর্ঘদিন ধরে প্যান্ডোরার সম্পদ ও শক্তি দখলের স্বপ্ন দেখছিল, কিন্তু কিরির হস্তক্ষেপে তার পরিকল্পনা নষ্ট হয়। এই মুহূর্তে কিরি দৃঢ়ভাবে বলে, “Leave my mother alone, bitch!” যা তার ‘এলিয়েন’ সিরিজের আইকনিক লাইনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫ থেকে ৯৫ মিলিয়ন ডলারের বক্স অফিস অর্জন করে, এবং বিশ্বব্যাপী ১০০ মিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এই আর্থিক সাফল্য ক্যামেরনের ধারাবাহিকতা ও ভক্তদের উচ্চ প্রত্যাশার প্রমাণ। ছবির ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও গল্পের গভীরতা উভয়ই সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
জেমস ক্যামেরন ছবির একটি টেন্ট দৃশ্যের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে কিরি তার ক্ষমতা প্রথমবার ব্যবহার করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দৃশ্যটি চরিত্রের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা দর্শকের কাছে শক্তিশালী আবেগীয় প্রভাব ফেলে। ক্যামেরনের এই বিশ্লেষণ ছবির নির্মাণ প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম দিকগুলোকে আলোকিত করে।
উইভার এই ভূমিকায় ফিরে আসা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ‘এলিয়েন’ সিরিজে রিপ্লি হিসেবে তিনি প্রথমবার নায়িকার মুকুট পরেছিলেন, আর এখন তিনি আবারই প্যান্ডোরার নায়িকা হিসেবে শীর্ষে দাঁড়িয়েছেন। এই পুনরাবৃত্তি তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা ও শিল্পের প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।
প্রশংসকরা তার পারফরম্যান্সকে “শক্তিশালী, সংবেদনশীল ও দৃঢ়” বলে প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে কিরি চরিত্রের মানসিক জটিলতা ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার অভিনয়কে উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে। এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে মিলিয়ে একটি শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলেছে।
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর মুক্তি দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, যেখানে পুরনো স্মৃতি ও নতুন গল্পের মিশ্রণ দেখা যায়। সিগৌনি উইভার নায়িকার ভূমিকায় ফিরে আসা চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে প্যান্ডোরার আরও অংশে তার উপস্থিতি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



