শহীদ শরিফ ওসমান হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা‑৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করেন। তার দেহের সমাহি শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের নিকটস্থ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাহির সময় উপস্থিত এক আত্মীয়ের মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয় যে, হাদির কাঁধে থাকা শিশুটি তার সন্তান নয়; শিশুটি হাদির ছোট্ট বিপ্লবী ভাইয়ের সন্তান। পূর্বে হাদি ভাই শিশুটিকে আদর করে কাঁধে তুলে নেয়ার দৃশ্যকে ভুল করে অনেকেই তার সন্তান বলে ধারণা করেছিল। তবে পরিবার এখন বিশ্বাস করে যে, এই শিশুই ভবিষ্যতে হাদির আদর্শের ধারক হয়ে উঠবে এবং তিনি তার জন্য প্রার্থনা করেছেন যেন শিশুটি বিপ্লবী নৈতিকতা গড়ে তুলতে পারে।
শহীদ হাদির সমাহি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথমে অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২:৩৩ টায় শুরু হওয়া জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে দেহটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সমাহি শেষ হয়।
সমাহি অনুষ্ঠানে ইমামত্ব পালন করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক, যিনি জানাজা নামাজের নেতৃত্ব দেন। সমগ্র এলাকায় শোকের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে, এবং উপস্থিতরা শোকের স্নেহময় পরিবেশে একত্রিত হন।
শহীদ হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনার সূত্রপাত হয় ১২ ডিসেম্বর, যখন পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন।
অবস্থা অবনতির ফলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি বৃহস্পতিবারই মৃত্যুবরণ করেন।
হাদি ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সক্রিয় আহ্বায়ক ছিলেন এবং রাজনৈতিক পরিসরে তার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল। তিনি ঢাকা‑৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারত। তার অকাল মৃত্যু ফলে ওই আসনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
হাদির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক দল ও সমর্থকগণ শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতারা হাদির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিপ্লবী নীতি ও ন্যায়বিচারকে পুনরায় জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা‑৮ আসনে স্বাধীন প্রার্থীর প্রভাব কমে যাওয়া সম্ভব, তবে হাদির সমর্থকরা তার স্মৃতিকে রাজনৈতিক আন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।
শহীদ হাদির পরিবার এবং সমর্থকগণ সমাহি শেষে একত্রিত হয়ে তার আত্মার শান্তি ও দেশের উন্নতির জন্য প্রার্থনা চালিয়ে গেছেন। সমগ্র ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে হাদির অবদান ও তার অকাল মৃত্যু উভয়ই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গঠনে প্রভাব ফেলবে।



