28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবীমা কর্পোরেশন আইন সংশোধনে বিদেশি পুনঃবীমার অনুমোদন

বীমা কর্পোরেশন আইন সংশোধনে বিদেশি পুনঃবীমার অনুমোদন

অন্তর্বর্তী সরকার বীমা কর্পোরেশন আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোকে বিদেশি রিইনশুরার সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিধান অনুসারে, প্রাথমিক বীমা গ্রহণের পর সব বীমা প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (GIC)‑এর সঙ্গে পুনঃবীমা করতে বাধ্য, তবে নতুন খসড়ায় এই বাধ্যবাধকতা বজায় রেখে বীমা কোম্পানিগুলোকে বিদেশি রিইনশুরার বিকল্পও প্রদান করা হবে।

বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯‑এর অধীনে বর্তমানে GIC একমাত্র পুনঃবীমা প্রদানকারী, এবং তার মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো বড় পরিমাণ প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। GIC‑এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশিদ উল্লেখ করেন, বিদেশি রিইনশুরার প্রবেশে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, কারণ বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম পরিশোধের সময় বিদেশি প্রতিষ্ঠানে মুদ্রা পাঠাবে।

বৈদেশিক রিইনশুরার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ক্রেডিট রেটিং থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে, যা গুণগত মান নিশ্চিত করবে বলে সরকারী সূত্র জানায়। তবে GIC‑এর বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার জন্য পুনঃবীমা বাধ্যতামূলক করার ধারা অপরিবর্তিত থাকবে, এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের মোট বীমা অঙ্কের অন্তত ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা করতে হবে।

২০২৪ অর্থবছরে GIC পুনঃবীমা থেকে এক হাজার একশো কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, যদি বিদেশি রিইনশুরা বাজারে প্রবেশ করে, তবে GIC‑এর কর‑পরবর্তী নিট মুনাফা প্রায় চারশো কোটি টাকার কাছাকাছি কমে যেতে পারে, কারণ প্রিমিয়াম প্রবাহের একটি অংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন বীমা শিল্পে প্রতিযোগিতা বাড়াবে, তবে একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের উপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলো মূলত স্থানীয় রিইনশুরার ওপর নির্ভরশীল, এবং বিদেশি রিইনশুরার প্রবেশে রেটিং মানদণ্ডের কঠোরতা বজায় রাখলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত হতে পারে।

অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি (NDA) অনুসারে আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশে কমানো হয়েছে, এবং এই চুক্তির অংশ হিসেবে পুনঃবীমা খাতের উন্মুক্তকরণও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। যদি এই ধারা কার্যকর হয়, তবে বিদেশি বীমা সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে সরাসরি পুনঃবীমা সেবা প্রদান করতে অনুমতি দেওয়া হবে, যা বাজারের গঠনকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে।

বীমা শিল্পের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, বিদেশি রিইনশুরার প্রবেশে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং মুদ্রা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, GIC‑এর আর্থিক স্বাস্থ্যের রক্ষা এবং দেশের বীমা পোর্টফোলিওর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, সংশোধিত আইন বীমা কোম্পানিগুলোকে বিদেশি রিইনশুরার বিকল্প প্রদান করে বাজারের উন্মুক্ততা বাড়াবে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় এবং GIC‑এর আয় হ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে রেটিং মানদণ্ড, বাধ্যতামূলক পুনঃবীমা অনুপাত এবং মুদ্রা রিজার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতি গঠন করতে হবে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তন বীমা শিল্পের প্রতিযোগিতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা প্রবাহের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments