চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাস্তায় ট্রাফিক বক্সে আক্রমণ ঘটার পর দুইজন পুলিশ সাময়িকভাবে পদত্যাগ করেছে এবং মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং মামলায় মোট পনেরো নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সকাল ৪টায় রিফাত নামের এক ব্যক্তি রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন। একই দিনে সন্ধ্যা ৭টায় সোহাগ নামের আরেকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে গাড়ি ধাক্কা খেয়ে মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুজনিত পরিবারগুলো দাবি করে যে, পুলিশ তাদের ধাওয়া করে পালাতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বেড়েছে।
দুপুর ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রিফাতের দেহ রাস্তায় শোয়েই ছিল। জনসাধারণের ভিড়ের কারণে পুলিশ দেহটি তৎক্ষণাত্ তুলে নিতে পারেনি।
পরে সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ গার্ড এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা রিফাতের দেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অধিকর্তা জানান, এই ঘটনার পর তদন্তের জন্য মোট পনেরো সন্দেহভাজনের নামসহ মামলা দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি সদর থানায় দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজারিতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনকে আদালতের আদেশে জেলহাজারিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বক্সে হামলা, হিংসাত্মক আচরণ এবং দুজনের মৃত্যুর দায়িত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে।
হামলার সময় ট্রাফিক বক্সে উপস্থিত দুইজন পুলিশকে তদন্তের স্বার্থে সাময়িকভাবে পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের পুনর্বাসন ও তদন্তের ফলাফল পরবর্তীতে জানানো হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল এবং তা দ্রুত উন্নত করা হবে।
মামলায় উল্লেখিত পনেরো নামের মধ্যে আক্রমণকারী, সহায়ক এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
সামাজিক অশান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।
আদালত ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারদের জেলহাজারি আদেশ দিয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ট্রাফিক বক্সের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।
বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় রিফাতের দেহ দ্রুত মর্গে পৌঁছায় এবং পরে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই ট্রাফিক বক্সে হামলা এবং দুজনের মৃত্যু স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



