শনি রাত প্রায় রাত ৯টায় নরায়ণগঞ্জের বকতাবলি গেট থেকে পারাপাররত একটি ফেরি থেকে পাঁচটি গাড়ি ধালেশ্বরী নদীতে ডুবে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় রিভার পুলিশ কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এতে একজন চালকের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ফেরি বকতাবলি গেটের পূর্ব দিকের গেট থেকে যাত্রী ও গাড়ি বহন করে রোডে বেরিয়ে আসে। ফেরি যখন নদীর মাঝখানে পৌঁছায়, তখন ট্রাকটি হঠাৎ সামনে এগিয়ে যায়, যা পুরো ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ট্রাকের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল, দুইটি ব্যাটারি চালিত অটো-রিকশা এবং একটি ভ্যানও একই সময়ে নদীতে পড়ে যায়। এই গাড়িগুলো সবই ফেরি থেকে লোড হওয়ার পরেই হঠাৎ করে ডুবে যায়।
ট্রাকের চালক দুর্ঘটনা ঘটার পর তৎক্ষণাৎ পানিতে ঝাঁপিয়ে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তার দ্রুত সাঁতার কাটা তাকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনে, তবে অন্য গাড়িগুলোর চালকদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।
ভ্যানের চালক বর্তমানে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি এবং সন্ধান কার্যক্রম চলমান।
বকতাবলি রিভার পুলিশ আউটপোস্টের ইনস্পেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান জানান, ট্রাকটি লোড করার সময় গিয়ার এখনও চালু থাকায় তা হঠাৎ সামনে এগিয়ে যায়। ফলে চালক স্টিয়ারিং হুইল ধরে গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
ইনস্পেক্টর রাকিবুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, ট্রাকের গিয়ার চালু অবস্থায় থাকা এবং চালকের অপ্রস্তুত অবস্থাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এই বিষয়টি তদন্তের সময় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।
পাঁচটি গাড়িই নদীর গভীরে ডুবে যাওয়ায় তাদের পুনরুদ্ধার কাজ কঠিন হতে পারে। রিভার পুলিশ দল দ্রুতই ডুবন্ত গাড়িগুলো তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কর্মী প্রস্তুত করছে।
নিরাপত্তা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, গাড়ি লোড করার সময় গিয়ার বন্ধ রাখা এবং চালকের সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ম মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, রিভার পুলিশ এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই স্থানীয় জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে ভ্যান চালকের সন্ধান এখনও চলমান, যা স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
অবশেষে, রিভার পুলিশ কর্তৃক জানানো হয়েছে যে, সব গাড়ি ডুবে যাওয়ায় তাদের পুনরুদ্ধার ও তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



