বিএনপি সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস গোপিবাগে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সভায় উল্লেখ করেন, তরিক রহমানের ফিরে আসার ঘোষণার পরপরই ঘটিত একাধিক সহিংস ঘটনা পরিকল্পিতভাবে দেশের অস্থিরতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল জনমতকে গুলিয়ে ফেলে নিজেদের স্বল্পস্বার্থ অর্জনের জন্য জনগণকে বদ্ধমূল করে রাখছে।
তরিক রহমানের বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে একটি হত্যাকাণ্ড, এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখা দেয়। আব্বাসের মতে, এই ধারাবাহিকতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়; বরং তা একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনার অংশ।
এই মন্তব্যগুলো গোপিবাগে ঢাকা মেট্রোপলিটন সাউথ বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে করা হয়, যেখানে তরিকের দেশে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতিমূলক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত কর্মীরা তরিকের প্রত্যাবর্তনকে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হিসেবে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
আব্বাস জনগণকে সতর্ক করেন, তরিকের ফিরে আসা মানে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউই এই সময়ে ভুল পথে না চলতে হবে, কারণ তরিকের উপস্থিতি দেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে কিছু প্রতিবাদ দেখা যায়, যার ফলে প্রথাম আলো, দ্য ডেইলি স্টার এবং চায়নাটের অফিসে আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই আক্রমণগুলোকে আব্বাস ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যারা দেশের মঙ্গলে ক্ষতি করে এবং জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে।
আব্বাস সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপরও তীব্র সমালোচনা করেন, কারণ তারা আগুন এবং গোষ্ঠী সহিংসতা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে বহুবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল দেশের জনগণকে বদ্ধমূল করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছে, যেন কাদা পানিতে মাছ ধরার মতো কৌশল অবলম্বন করে। এ ধরনের কৌশলকে তিনি ‘ময়লা পানিতে মাছ ধরা’ বলে অভিহিত করেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে।
আব্বাসের মতে, ঢাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না, কারণ জনগণ এবং দলের মধ্যে দৃঢ় সংহতি রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক শক্তি একসাথে কাজ করবে।
তরিকের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত রিসেপশন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলমান, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। ভবিষ্যতে এই রিসেপশন কীভাবে পরিচালিত হবে এবং তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল পক্ষের সতর্কতা এবং সংযমের আহ্বান করা হচ্ছে।



