প্রিন্স উইলিয়াম এবং তাঁর ১২ বছর বয়সী পুত্র প্রিন্স জর্জ গত সপ্তাহে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় অবস্থিত দ্য প্যাসেজ গৃহহীন আশ্রয়ে স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য উপস্থিত হন। দুজনই একসাথে ক্রিসমাস লাঞ্চ প্রস্তুত করার কাজে অংশ নেন, যেখানে প্রায় ১৫০ জন গৃহহীন মানুষকে খাবার পরিবেশন করা হয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে রাণী ডায়ানার সঙ্গে যুক্ত পারিবারিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দ্য প্যাসেজ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যা কেন্দ্রীয় লন্ডনে গৃহহীন ব্যক্তিদের জন্য রাত্রীভোজন, শৌচাগার, পরামর্শ ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রদান করে। সংস্থাটি ১৯৯৩ সালে রাণী ডায়ানা প্রথমবারের মতো ভিজিট করেন এবং সেই সময়ই তিনি একটি ভিজিটর বইতে স্বাক্ষর করেন। তখনই প্রিন্স উইলিয়ামও উপস্থিত ছিলেন, যা আজকের এই সফরের জন্য একটি ঐতিহাসিক সংযোগ তৈরি করে।
প্রিন্স উইলিয়াম তার শৈশবে দ্য প্যাসেজে গৃহহীনদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, যখন তার মা ডায়ানা প্রথমবার সেখানে গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি তাকে আজও সংস্থার কাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রাখে। এইবার তিনি তাঁর পুত্রকে একই স্থানে নিয়ে গিয়ে গৃহহীনদের সমস্যার প্রতি সংবেদনশীলতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
আশ্রয়ে পৌঁছে দুজনেই রান্নার প্রস্তুতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। প্রিন্স জর্জ মূলত ইয়র্কশায়ার পুডিং তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে প্রিন্স উইলিয়াম শসা ও মটরশুঁটির স্প্রাউট প্রস্তুত করছিলেন। দুজনের কাজ একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে, খাবারটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে রান্না করা সম্ভব হয়।
মিক ক্লার্ক, দ্য প্যাসেজের সিইও, জানান যে প্রিন্স জর্জের উপস্থিতি পুরো দলকে উচ্ছ্বসিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রিন্স জর্জ খুবই উদ্যমী ছিলেন, নিজের হাত দিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক ছিলেন, ঠিক তার বাবার মতোই।” ক্লার্কের মতে, জর্জের এই মনোভাব সংস্থার কর্মীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্লার্ক আরও যোগ করেন, “প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্স জর্জ দুজনেই কাজের মধ্যে ডুবে গেছেন; তারা শুধু পর্যবেক্ষণ করেননি, বরং সক্রিয়ভাবে রান্না ও পরিবেশনে অংশ নিয়েছেন।” তিনি বলেন, এই ধরনের সরাসরি অংশগ্রহণ রাজপরিবারের সামাজিক দায়িত্বের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
রান্না চলাকালীন বাবা ও পুত্রের মধ্যে হালকা প্রতিযোগিতার সুর দেখা যায়। মিক ক্লার্কের বর্ণনা অনুযায়ী, “প্রিন্স উইলিয়াম স্প্রাউটের স্টিমার প্রস্তুত করছিলেন, আর প্রিন্স জর্জ ইয়র্কশায়ার পুডিংয়ের ব্যাটার মেশাচ্ছিলেন; দুজনেরই কাজের গতি ও নিখুঁততা প্রশংসনীয় ছিল।” এই ছোটখাটো প্রতিযোগিতা কর্মস্থলের উষ্ণ পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।
দ্য প্যাসেজের ভিজিটর বইতে প্রিন্স জর্জের স্বাক্ষরও একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করে। তিনি একই পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর করেন, যেখানে ১৯৯৩ সালে প্রিন্স উইলিয়াম ও তার মা ডায়ানা স্বাক্ষর করেছিলেন। ক্লার্ক এই ঘটনাকে “একটি সুন্দর, হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত” বলে বর্ণনা করেন, যা দুই প্রজন্মের সংযোগকে চিত্রিত করে।
ক্লার্কের মতে, এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে “একটি পূর্ণ বৃত্ত” সম্পন্ন হয়েছে; ১৯৯৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রাণী ডায়ানার প্রথম সফর থেকে এখন প্রিন্স জর্জের উপস্থিতি পর্যন্ত একটি ধারাবাহিকতা দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধারাবাহিকতা রাণীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার সন্তানদের সামাজিক দায়িত্বের প্রতি শিক্ষা প্রদানের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।
দ্য প্যাসেজের কর্মীরা এই সফরকে সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে স্বীকার করেন। তারা বলেন, “প্রিন্স জর্জের উপস্থিতি আমাদের কাজের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, এবং তিনি গৃহহীনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।” এই মন্তব্যগুলো সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী ও দাতাদের আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
সামগ্রিকভাবে, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স জর্জের এই স্বেচ্ছাসেবী সফর রাণী ডায়ানার সঙ্গে যুক্ত পারিবারিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং গৃহহীনদের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। দ্য প্যাসেজের কর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উচ্চ-প্রোফাইল উপস্থিতি গৃহহীন সমস্যার সমাধানে আরও সমর্থন ও সম্পদ আনবে। ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের মাধ্যমে রাজপরিবারের সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন অব্যাহত থাকবে।



