স্ট. জেমস পার্কে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের এই ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেড দুই গোলের সুবিধা নিয়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত চেলসি ২-২ সমান স্কোরে পৌঁছায়। নিক ওলটেমেডের দু’গোলের পর চেলসির রিস জেমস ও জোয়াও পেড্রোর গোলগুলোই দলকে এক পয়েন্টে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
নিউক্যাসল প্রথমার্ধে ২-০ লিড তৈরি করে, যা তাদের গেমের নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়। তবে দলটি এই মৌসুমে লিড হারানোর প্রবণতা দেখিয়ে চলেছে, এবং এই ম্যাচে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রথম গোলটি এ্যান্থনি গর্ডনের ত্বরিত কাজের ফল। গর্ডন ওয়েসলি ফোফানাকে পিকপকেট করে বলটি ডান উইংে পাঠায়, যেখানে জেকব মর্ফি ক্রস দেন। চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের পারি না পারা শটের রিবাউন্ডে ওলটেমেড দ্রুত লাফিয়ে গলে গড়ে দেয়। এই মুহূর্তে স্টেডিয়ামের ভক্তরা তার নাম গুঞ্জন করে, কারণ ছয় দিন আগে তিনি সানডারল্যান্ডের ডার্বিতে নিজেরই গোল করে দলের জন্য দুঃখজনক পরিণতি বয়ে এনেছিলেন।
২০তম মিনিটে ওলটেমেডের দ্বিতীয় গোলের জন্য ভিএআর দীর্ঘ সময় পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করে যে তিনি অফসাইডে ছিলেন না। এই গোলেও গর্ডনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ; তিনি ইংল্যান্ডের উইংার জেমসকে ছাড়িয়ে বলটি জিতেন এবং তার ক্রসকে ওলটেমেডের দেহের মাধ্যমে সানচেজের পৌঁছানোর বাইরে পাঠায়। ফলে নিউক্যাসল ২-০ লিড বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির রিস জেমসের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় দিকের পারফরম্যান্স দলকে সমান করার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। জেমসের গোলটি শুধু স্কোরবোর্ডে পরিবর্তনই আনেনি, তার সুনির্দিষ্ট ডিফেন্সও নিউক্যাসলের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ রাখে।
এরপর জোয়াও পেড্রোর গোল চেলসির পয়েন্ট নিশ্চিত করে। পেড্রোর শুটিংয়ের সঠিকতা এবং সময়মতো অবস্থান নেওয়া দলকে শেষ মুহূর্তে সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই দুই গোলের ফলে চেলসি প্রথমার্ধের দুর্বল পারফরম্যান্সের ক্ষতিপূরণ করে এবং তিন পয়েন্টের বদলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
নিউক্যাসলের কোচ এডি হাওকে সাধারণত টিমের শৃঙ্খলা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশংসা করা হয়। তবে এই মৌসুমে তার দল ধারাবাহিকভাবে লিড হারিয়ে ফেলছে, যা তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ বলে মনে হয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখায়, নিউক্যাসল এই সিজনে ইতিমধ্যে ১৩ বার জয়ী অবস্থান থেকে পয়েন্ট হারিয়েছে। লিড হারানোর এই ধারাবাহিকতা দলকে শিরোপা লড়াইয়ে পিছিয়ে রাখছে এবং ভবিষ্যতে ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
মধ্যমাঠে স্যান্ড্রো টোনালির ফিরে আসা কিছুটা আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়; তিনি আবারও তার পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি ও কাটিং পাস দিয়ে দলকে সমর্থন করছেন। তবে সামগ্রিকভাবে নিউক্যাসলের খেলায় এখনও ধারাবাহিকতা ও মনোযোগের অভাব স্পষ্ট।
অবশেষে, চেলসির সমান স্কোরে ড্র নিশ্চিত হওয়ায় দু’দলই এক পয়েন্ট করে বাড়ে, তবে নিউক্যাসলকে লিড হারানোর ব্যয় বহন করতে হয়েছে। এই ফলাফল দলকে পরবর্তী ম্যাচে পুনরায় সঠিক কৌশল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।



