ইসরায়েলি সেনা শনিবার সিরিয়ার দখলকৃত গোলান হাইটসের কুনেইত্রা জেলার কিছু গ্রামে প্রবেশ করে দুইটি সামরিক চেকপয়েন্ট গড়ে তুলেছে। এই অভিযানটি আল জাজিরা 현장 প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, আয়ন জি ওয়ান ও আল-আজরাফ গ্রামগুলোতে সংঘটিত হয়।
অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী পাঁচটি সামরিক গাড়ি ব্যবহার করে আয়ন জি-তে চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে, যা সিরিয়ার রাষ্ট্র টেলিভিশন অনুসারে দেশের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
এই পদক্ষেপের আগে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একদিন আগে কুনেইত্রা জেলার আল-আশা, বির আজাম, বারিকা, উম্ম আল-আজাম ও রুয়াহিনার দিকে অগ্রসর হয়ে একই অঞ্চলে উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়। সিরিয়ার সংবাদ সংস্থা সানা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিরিয়ার কুনেইত্রা গভর্নরেটের আল-সালাম শহরে শুক্রবারে শতাধিক প্রতিবাদকারী ইসরায়েলি আক্রমণকে নিন্দা করে রাস্তায় নেমে আসে। “সিরিয়ানস উইথ প্যালেস্টাইন” নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী ব্যানার তুলে সিরিয়ার ভূমিতে ইসরায়েলি হস্তক্ষেপকে অবৈধ বলে দাবি করে।
সিরিয়ার সরকারী সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী কুনেইত্রা অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই সীমান্ত অতিক্রম করে, গ্রামগুলোতে গ্রেফতার, চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং ভূমি ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
আকাশ থেকে চালিত আক্রমণও অব্যাহত রয়েছে। যদিও সরাসরি সামরিক হুমকি কিছুটা কমে এসেছে, ইসরায়েলি বোমা, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা এখনও বেসামরিক ক্ষতি ও সিরিয়ার সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের কারণ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত তথ্য সংস্থা ACLED-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ ৬০০টির বেশি হয়েছে, যা গড়ে দিনে দু’বারের বেশি ঘটেছে।
এই আক্রমণগুলোর তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ডিসেম্বর ২০২৪-এ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর। আল-আসাদ পতনের পর ইসরায়েলি সরকার ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি বাতিলের ইঙ্গিত দিয়ে দক্ষিণ সিরিয়ায় তার দখল বাড়িয়ে দেয়। ঐ চুক্তি, যা সিরিয়া ও ইসরায়েলকে গলান হাইটসের নির্ধারিত সীমা নির্ধারণ করেছিল, এখন ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলো কেবল সিরিয়ার ভূখণ্ডিক অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে জটিল করে তুলছে। তারা বলেন, গলান হাইটসের দখল সম্প্রসারণের ফলে সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি রক্ষার প্রচেষ্টায় নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হবে।
ইউএন নিরাপত্তা পরিষদে কিছু দেশ ইসরায়েলি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে, সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনও ইসরায়েলকে সমর্থনকারী রূপে রয়ে গেছে, যা অঞ্চলের কূটনৈতিক সমন্বয়কে জটিল করে তুলছে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ইসরায়েলি আক্রমণের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। বিশেষত, গলান হাইটসের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও ১৯৭৪ সালের চুক্তির বৈধতা নিয়ে আলোচনার জন্য সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক আলোচনার আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক কুনেইত্রা অভিযানে দুইটি চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং গ্রামগুলোতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো সিরিয়ার ভূখণ্ডিক সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।



