সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য শনিবার রওনা হয়েছেন। এই আলোচনায় মানবিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হবে।
সুদানের সেনাবাহিনী এবং দ্রুত সমর্থন বাহিনীর (আরএসএফ) মধ্যে এপ্রিল ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দক্ষিণ কোর্ডোফানে তীব্র হচ্ছে, যা নতুন নৃশংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এল-ফাশের শহরে গত অক্টোবরে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার মতো একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুদানের সরকারি সূত্রগুলি জানিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী ইদ্রিস জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটেরেসের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং সুদানে বর্তমান মানবিক সংকটের অবসান ঘটাতে প্রচেষ্টা চালাবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদেল কাদের জানিয়েছেন যে আলোচনায় মানবিক সহায়তা প্রদান এবং জাতিসংঘের কাছে প্রদত্ত সড়কমাপের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
গত মাসে, জাতিসংঘের মহাসচিব গুটেরেস জেনেভায় উভয় পক্ষের সাথে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তবে তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধে সংঘর্ষের অবসানে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান গত সপ্তাহে রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে আলোচনার পর ট্রাম্পের সাথে সংঘর্ষের সমাধানে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরের সাথে একটি চার-জাতীয় মধ্যস্থতা গোষ্ঠীর অংশ, যা সাম্প্রতিক মাসগুলিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তবে, আলোচনাগুলি স্থগিত হয়েছে কারণ বুরহান মধ্যস্থদেরকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযুক্ত করেছেন। সুদানের সরকার অভিযোগ করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে অস্ত্র ও সমর্থন প্রদান করছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত বারবার অস্বীকার করেছে।
সুদানের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী ইদ্রিসের নিউইয়র্ক সফর এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।



