ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার উপস্থিতিতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ও বক্তব্য দেন নিহতের বড় ভাই ড. আবু বকর সিদ্দিক।
ড. আবু বকর সিদ্দিক বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজকের তার লাশ আমার কাঁধে বহন করতে হচ্ছে—এর চেয়ে বড় পরিতাপের বিষয় আর কী হতে পারে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং পরিবারের করুণ অবস্থার বর্ণনা দেন।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে নেওয়া হয়। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
ড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রাজধানী ঢাকায় জুমার নামাজের পরে খুনি প্রকাশ্যে গুলি করে কীভাবে পার পেয়ে যায়? এর চেয়ে লজ্জার আমাদের আর কিছু নেই। তিনি আরও জানান, সন্তানের শোকে তাদের মা ও বোন মাসুমা মানসিক ভারসাম্য হারানোর উপক্রম হয়েছেন।
জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে ভাইয়ের আট মাস বয়সী শিশু সন্তান-এর কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ওর বাচ্চার জন্মের সময় ও বলেছিল—ভাই, এমন একটি নাম নির্বাচন করেন যার মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতা থাকবে। আমি নাম দিয়েছিলাম ‘ফিরনাস’। কিন্তু আজ সেই সন্তানের দিকে তাকানো যায় না। সে কোনোদিন তার বাবার চেহারার কথা মনে করতে পারবে না।
ড. আবু বকর সিদ্দিক আরও জানান, শরিফ ওসমান হাদি সবসময় দেশের জন্য কাজ করেছেন। তিনি দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর বিচার তিনি চান। তিনি আশা করেন যে সরকার তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর বিচার করবে।



