বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ভিত্তিক সেবাগুলির দ্রুত বৃদ্ধির পরও, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখনও ইন্টারনেটের বাইরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ৫ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে ৪৮.৯ শতাংশ মানুষ সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল।
বিবিএস এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবহার সম্পর্কিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ পরিবারের কমপক্ষে একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল। এছাড়াও, একই সময়ে ৫০.৪ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে ৫৫.১ শতাংশ ছিল।
এই পরিসংখ্যানগুলি নির্দেশ করে যে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ এখনও ডিজিটালভাবে বঞ্চিত, যদিও অনলাইন সেবাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থ ও সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে অ্যাক্সেসকে গঠন করছে। বিবিএস এর জরিপটি ৫ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করে, যা জাতীয় আইসিটি নীতি গঠনে এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম যেমন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং এসডিজি ট্র্যাকারে প্রতিবেদন করার জন্য করা হয়।
জরিপটি আরও উল্লেখ করেছে যে প্রায় ৮০.৬ শতাংশ মানুষ বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, যখন ৫৬.৫ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে প্রায় সমান অনুপাত রয়েছে – পুরুষদের মধ্যে ৮১ শতাংশ ও মহিলাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ। তবে, মালিকানা ও ইন্টারনেট অ্যাক্সেসে একটি উল্লেখযোগ্য লিঙ্গ ব্যবধান রয়েছে।
প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ কমপক্ষে একটি মোবাইল ফোনের মালিক, যখন মহিলাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ মালিক। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্যাটার্ন দেখা যায় – ৫১.২ শতাংশ পুরুষ অনলাইন, যখন ৪৬.৩ শতাংশ মহিলা ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
বিবিএস এর জরিপ ইন্টারনেট ব্যবহারে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একটি স্থিতিশীল বৃদ্ধি নির্দেশ করে, এমনকি মোবাইল ফোনের মালিকানায় একটি সামান্য পতন হলেও।



