বাংলাদেশে গত বছরের বিক্ষোভের প্রখ্যাত নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক গভীরভাবে বিচলিত হয়েছেন। গত সপ্তাহে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মারা গেছেন তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ফলকার টুর্ক সবার প্রতি শান্ত থাকা ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা কেবল বিভাজন আরও গভীর করবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।’ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষগুলোর প্রতি ওসমান হাদির ওপর হামলার একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ হয়। এ সময় কিছু ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর প্রকাশ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেছেন, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে সব মানুষ নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নিতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন।
ফলকার টুর্ক আরও বলেছেন, ‘আমি এই সংকটময় সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অস্থিরতা যেন আরও না বাড়ে, তা প্রতিরোধ করতে হবে।’ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আরও সহিংসতা প্রতিরোধের উদ্যোগে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সকল পক্ষকে শান্তি ও সহিংসতা এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং মানবাধিকার রক্ষায় সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের আহ্বানের পর বাংলাদেশ সরকারকে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এছাড়াও সরকারকে মানবাধিকার রক্ষায় সকল পক্ষের সহযোগিতা করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং মানবাধিকার রক্ষায় সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।



