ছায়ানট সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফ্রোদিতি আকিরার মনে অনেক প্রশ্ন জাগিয়েছে। তিনি জানতে চান, তাদের স্কুলে কেন আগুন দেওয়া হয়েছে।
ছায়ানটে হামলার ঘটনায় শুক্রবার বিকালে নালন্দা এবং ছায়ানট বিদ্যায়তনের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংস্কৃতিকর্মীরা গান গেয়ে প্রতিবাদ করেছে। ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের সামনের এ আয়োজনে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতসহ কয়েকটি গান পরিবেশন করা হয়।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ছায়ানট ভবন পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ছায়ানট ভবনে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ছায়ানটের সংগঠক পার্থ তানভীর নভেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন উপদেষ্টা। ছায়ানটের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ছায়ানটের বাইরে বিজিবি ও পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।
ছায়ানট বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাঙালির আবহমান সংগীতসংস্কৃতির সাধনা ও প্রসারে ছায়ানট তার স্থির প্রত্যয় যাত্রায় অবিচল থাকবে। তবে ছায়ানটের বিবৃতিতে বলা হয়, ছায়ানট একটি স্বেচ্ছাসেবী ও স্বনির্ভর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ছায়ানট কোনো সরকার, বিদেশি সংস্থা বা করপোরেট অনুদান গ্রহণ করে না। সুতরাং, ছায়ানট আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে এই ক্ষতিপূরণ করবে।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর শাহবাগসহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে হামলার খবরের মধ্যে একদল বিক্ষোভকারী রাত ১টার পর জড়ো হতে থাকেন ধানমন্ডির শংকরে ছায়ানটের সামনে।
ছায়ানটের কাজের ক্ষেত্র রাজনীতি নয়, সংগীতসংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করে ছায়ানট। সংগীত এবং শিশুদের সাধারণ শিক্ষায় এই সাময়িক বিঘ্নের দ্রুত প্রতিকার করতে বদ্ধপরিকর।



