বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্যের পথে ঠেলে দিতে চায়। তিনি আরও বলেন, এই মহল গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে।
গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, গতকাল রাতে দৈনিক প্রথম আলো, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এছাড়াও ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ব্যক্তিত্ব, দেশবরেণ্য সাংবাদিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গতকাল খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আবার অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। উত্তরা এলাকায় ৩২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হলো ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে এক হিন্দু যুবককে গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা এবং আগুন দেওয়া। চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজশাহীতেও প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, পুরোনো একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাগুলোকে ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করা যায়।
বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, তারা এই ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তারা দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে একত্রিত হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এমন মহলের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।



