ঢাকায় চহায়নটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একটি হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় চহায়নট শক্তভাবে নিন্দা জানিয়েছে এবং সরকারের কাছে এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
চহায়নটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একদল লোক চহায়নট সংস্কৃতি ভবনে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে এবং ভবনটির কিছু অংশে অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করেছে। এই হামলায় ভবনটির ছয়তলার প্রায় সব কক্ষ, অডিটোরিয়াম ও অফিস ভাংচুর হয়েছে এবং সব সিসিটিভি ক্যামেরা ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়াও, সঙ্গীতের যন্ত্র, কম্পিউটার, আসবাবপত্র ভাংচুর হয়েছে এবং কিছু যন্ত্র ও আসবাবপত্র সহ সার্ভার অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কমপক্ষে সাতটি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ও বেশ কয়েকটি হার্ড ড্রাইভ চুরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও সরঞ্জামগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চহায়নট শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে যে তারা বুঝতে পারছে না কেন এই ঘটনার সাথে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি লক্ষ্য করা হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে যে এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকি চহায়নট ভবনে বিকেলে একটি পরিদর্শন করেছেন। এই পরিদর্শনের সময়, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং চহায়নটের আয়োজক পার্থ তন্বীর নাভেদ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন।
পরিদর্শনের পরে, ফারুকি সাংবাদিকদের বলেছেন যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেছেন যে চহায়নট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটিকে সমস্ত ধরনের সহায়তা, অর্থনৈতিক সহায়তা সহ, প্রদান করবে যাতে ক্ষতির মূল্যায়ন ও মেরামত শেষে প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে।
চহায়নটের এই হামলার ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তীব্র শোক ও নিন্দার ছায়া নেমেছে। এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারের জন্য সরকারকে দাবি জানানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে চহায়নট ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকার চহায়নটকে সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর চহায়নটের সঙ্গে সমস্ত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্ম হয়েছে। তারা চহায়নটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং এই হামলার বিচার দাবি করেছে। এই ঘটনার পর দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সবাই একসাথে এই হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
চহায়নটের এই হামলা ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন পর্যায়ের সংগ্রামের সূচনা হয়েছে। এই সংগ্রামে সবাই একসাথে এই হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং এই হামলার বিচার দাবি করেছে। এই ঘটনার পর দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছে



