বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় সব লেনদেনই ইউএস ডলারের মাধ্যমে করা হয়। এটি আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে ডলারকে বিশ্বব্যাপী রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।
বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনে এককভাবে ইউএস ডলার ব্যবহারের এই নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বিভিন্ন দেশ। তারা বৈদেশিক লেনদেনের জন্য মার্কিন ডলারের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব মুদ্রা বা ভিন্ন কোনো মুদ্রা ব্যবহার করার দাবি তোলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদী বাণিজ্যনীতি ডলারের বিশ্বায়নের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে পালটা ব্যবস্থার দিকে হাঁটছে দেশটির অনেক বাণিজ্য অংশীদার, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের অবস্থানে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ইউএস ডলার সূচক ১১ শতাংশের বেশি কমে ৯৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৭৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। গত ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপকভাবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই ডলার সূচক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে খণ্ডিত অবস্থা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের ডলার থেকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করছে। এর বিপরীতে স্বর্ণ মজুতের পাশাপাশি ইউরো ও ইউয়ানের মতো বিকল্প মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে তারা।
ডলারের ওঠানামার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজস্ব মুদ্রার মান পেগ বা স্থির করে রেখেছে চীন। এর ফলে ইউয়ানের বিনিময় হার অতিরিক্ত বাড়ে বা কমে না, যা রপ্তানিকারকদের জন্য অনুকূল। এতে ইউরোপসহ প্রধান বাজারে চীনা রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। যে কারণে ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ চীনা পণ্য সস্তায় কিনতে পারে।
ডলারের জায়গায় অন্য কোনো মুদ্রা আসবে কি না-এ প্রশ্নের উত্তর হলো, এখনো তেমন কোনো স্থিতিশীল মুদ্রা নেই। উদাহরণস্বরূপ, ইউরো এবং ইউয়ান হলো দুটি মুদ্রা যা ডলারের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো মুদ্রা ডলারের মতো বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে স্থাপিত হয়নি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য হ্রাসের ফলে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। এটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। কিন্তু এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্বে আমেরিকার ভূমিকা কমে যাবে এবং নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সবশেষে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য হ্রাসের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। এটি বিভিন্ন দে



