মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তিনি বলেছেন, এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শুক্রবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, আমি এটা নাকচ করছি না। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার জলসীমার কাছাকাছি আরও তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করা হবে।
যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রথমে সরাসরি উত্তর দেননি। তবে একাধিকবার জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ নিয়ে কথা বলি না। এরপরও নিশ্চিত করেন যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং আরও ট্যাংকার জব্দ হবে।
সময়সূচি জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এটা নির্ভর করে। তারা যদি এভাবে বোকামি করে চলতে থাকে, তাহলে তারা আমাদের কোনও একটি বন্দরে নোঙ্গর করবে।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা তার লক্ষ্য কি না, এমন প্রশ্নেও ট্রাম্প সরাসরি উত্তর দেননি। তিনি বলেন, তিনি জানেন আমি কী চাই, সবার চেয়ে ভালো তিনিই জানেন।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভাবনা নাকচ না করা প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান পার্টির যুদ্ধপ্রবণ অংশ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি সংঘাত থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু করবেন না বরং যুদ্ধ থামাবেন।
উত্তেজনা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলে ২৮টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ না করার ফলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পরবর্তী ধাপ কী হবে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য মার্কিন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ না করার ফলে মার্কিন সরকারের বিদেশ নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন যে, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সরকারের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।



