গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু হলে ঝিনাইদহে প্রতিবাদ স্ফোটে উঠেছে। এই প্রতিবাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বুধবার রাত ১২টার পর শহরের দামদো ও হাটখোলা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতা প্রথমে শহরের দামদো এলাকার জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কনক কান্তি দাসের বাসায় হামলা করেছে। তারা বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র বের করে রাস্তার উপর এনে অগ্নিসংযোগ করেছে।
এরপর ছাত্র জনতা হাটখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগের পৌর সভাপতি মিজানুর রহমান মাসুমের বাসায় হামলা করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন আরও বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে চেষ্টা করেছে। পরে ফায়ার ব্রিগেড, সেনাবাহিনী ও র্যাব পৌঁছে ঘটনাস্থলে আসে ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শহরের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, র্যাব ও সেনা বাহিনী টহল দেওয়া শুরু করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।



