তুরস্ক রাশিয়ার কাছে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করেছে। এই অনুরোধের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে এই সিদ্ধান্তের ফলে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পথ সুগম হবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত সপ্তাহে তুর্কমেনিস্তানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি এই অনুরোধ করেন। রুশ এবং তুর্কি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বৈঠকের পরই দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় বিষয়টি আসে।
এর আগে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন যে আঙ্কারা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উৎপাদন ব্যবস্থায় তুরস্কের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। তিনি বলেন তুরস্কের কাছে থাকা এস-৪০০ নিয়ে কথা চলছে।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ যৌথ উৎপাদন প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়। সিরিয়ায় সামরিক অভিযান এবং গ্রিসের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন কংগ্রেস তখন থেকেই আঙ্কারার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিলের সংশোধনীতে তুরস্ককে এফ-৩৫ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে বলা হয় দেশটিতে রুশ এস-৪০০ থাকলে কোনোভাবেই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা যাবে না। এই শর্তে তুরস্ক দীর্ঘদিন আটকে ছিল।
এস-৪০০ ফেরত চাইতে যাওয়ায় তুরস্কের অবস্থান বড় বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বে ট্রাম্প প্রশাসনে তুরস্ককে ঘিরে আলোচনা আরও দ্রুত এগোতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ অ্যারন স্টেইন জানিয়েছেন ট্রাম্প তুরস্কের সঙ্গে নতুন সামরিক চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত।
এস-৪০০ ফেরত পাঠালে তুরস্কের জন্য এফ-৩৫ কেনা সহজ হবে কি না সেটিই এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় আসতে পারে। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য তুরস্কের প্রচেষ্টা সফল হবে কি না সেটি এখন অনিশ্চিত। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত যে তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করবে।
তুরস্কের এস-৪০০ ফেরত নেওয়ার অনুরোধ রাশিয়ার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রাশিয়া এস-৪০০ বিক্রি করে তুরস্কের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ক বাঁধার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
তুরস্কের এস-৪০০ ফেরত নেওয়ার অনুরোধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
তুরস্কের এস-৪০০ ফেরত নেওয়ার অনুরোধের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হবে। এই পরিস্থিতি তুরস্ক, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র



