শ্রীলঙ্কায় একটি বন্য হাতিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোক আগুনের মশাল দিয়ে হাতিটিকে ধরে পুড়িয়ে মারছে।
এই ঘটনায় হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা হাতিটিকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি বেঁচে থাকতে পারেনি। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বয়স ৪২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। হাতিটির শরীরে গুরুতর পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন ছিল এবং এর পায়ে গুলির আঘাত ছিল।
এই ঘটনায় প্রাণী অধিকার সমর্থক ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। একটি পিটিশন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে অপরাধীদের বিচার ও এই ধরনের নির্মমতা রোধ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। এই পিটিশনে ইতিমধ্যেই ৪০০টিরও বেশি স্বাক্ষর হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় হাতি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। দেশটির অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। পোষা হাতিরা প্রায়শই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয় এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। শ্রীলঙ্কায় হাতি হত্যা একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
শ্রীলঙ্কায় মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এই বছর পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি হাতি মারা গেছে। এই মৃত্যুর অনেকগুলি সরাসরি মানুষের কাজ। গুলি করে, ট্রেন দুর্ঘটনায় এবং জবাবদিহিতা বোমা ব্যবহার করে হাতিদের মারা হয়েছে। একই সময়ে, ১০০টিরও বেশি মানুষ হাতির আক্রমণে মারা গেছে।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিচার করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে এবং তারা যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাদের কঠোর শাস্তি হবে। এই ঘটনায় সরকার ও প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলি সতর্ক হয়েছে এবং এই ধরনের ঘটনা রোধ করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।



