সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চার্জশিট অনুমোদন করেছে। কামাল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামাল অসৎ উপায়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে তাঁর নামে ৯টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে মোট ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা লেনদেন হয়েছে।
মামলায় কামালের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—কামালের স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মোদ্দাছির খান জ্যোতি এবং মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খান।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কামালের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ নামে, বাড়ি নির্মাণে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ১৫ কোটি ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫১ টাকার অবৈধ সম্পদ গোপন বা আড়াল করতে সহায়তা করেছেন। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, মূলত আসাদুজ্জামান খানের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা এই অপরাধ করেছেন।
দুদক তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।



