নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পুনরায় দলীয় প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের সদস্যদের ভোটে তিনি ভূমিধস জয়লাভ করেন।
এই নির্বাচনের ফলে অলি আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের নেতৃত্ব দেবেন। নেপালে আগামী মার্চ মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন দেশ পরিচালনা করছে।
অলির দলের প্রচার বিভাগের প্রধান রাজেন্দ্র গৌতম জানিয়েছেন, অলি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈশ্বর পোখরেলের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ভোট পেয়েছেন। পোখরেলের ৫৬৪ ভোটের তুলনায় ১৬৬৩ ভোট পেয়েছেন অলি।
সম্মেলনে অংশ নিতে পশ্চিম নেপালের গন্ডাকি প্রদেশ থেকে আসা ৪৫ বছর বয়সী তারা মায়া থাপা মাগার জানিয়েছেন, ‘আমি খুশি যে তিনি জিতেছেন। তিনি জাতির জন্য সময়ের প্রয়োজন।’
গত সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের সময় বিক্ষুব্ধ জনত অলির বাড়ি এবং সংসদ ও আদালতসহ শত শত অন্যান্য ভবনে আগুন দেওয়ার পরপরই চারবারের এই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। অলি তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, এই পদত্যাগ ‘একটি রাজনৈতিক সমাধান এবং সমস্যার সমাধানকে’ সাহায্য করবে।
বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগের পর জনসাধারণের হতাশার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্ট ওই অস্থিরতায় কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হন।
অলির ক্ষমতাচ্যুতির পর ৭৩ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে ৫ মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত হিমালয় জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়।
নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত গুরুতর। আগামী নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। অলির পুনরায় দলীয় প্রধান নির্বাচিত হওয়ার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অলির নেতৃত্বে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত গুরুতর এবং আগামী নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।



