জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক যুবককে চুরির অভিযোগে আটকে রাখার পর নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত যুবকের নাম সুজন মণ্ডল। তিনি কাশিড়া পুকুরিয়া গ্রামের ওসমান মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় মাইক্রোবাস চালক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার গোপীনাথপুর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাকুরদাড়িয়া গ্রামে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সুজন মণ্ডল বিকেলে ওই গ্রামে তার খালাতো বোন সোনাভানের বাড়িতে গিয়ে ছিলেন। সেখানে তিনি দরজা ভেঙে ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ইউপি সদস্য সেলিম হোসেনের সহায়তায় সুজন মণ্ডলকে পাকুরদাড়িয়া গ্রামে ধরে আনা হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারপিটের এক পর্যায়ে টাকা চুরির কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে ৪৫ হাজার ফেরতও দেন তিনি। এরপর সুজনকে সঙ্গে করে কাশিড়া বাজারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে যান ইউপি সদস্য সেলিম।
ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সুজন মণ্ডলকে আবারও বেধড়ক মারপিট করেন সেলিম ও তার সহযোগীরা। এতে সুজন গুরুতর আহত হলে থানায় খবর দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন ইউপি সদস্য সেলিম। তবে রাতে ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ। পরে দুজন গ্রাম পুলিশ দিয়ে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সুজনকে আটকে রাখেন ওই ইউপি সদস্য।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সুজন মণ্ডল সেখান থেকে তার স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এরপর পাহারার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশেরা সুজন মণ্ডল আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্ত্রীকে খবর দেন। খবর পেয়ে সুজনের স্বজন ও উৎসুক লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা এসে ফ্যানের হুকের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ ঝুলতে দেখেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
সুজন মণ্ডলের স্ত্রী মারুফা আকতার দাবি করেছেন, তার স্বামীকে ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনাটি আড়াল করতে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন সেলিম। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ। তারা দাবি করছেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ জনগণের দাবি বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।



