সৌদি আরব সরকার তাদের দেশের শিল্প খাতের বিদেশি কর্মীদের ইকামা ফি বাতিল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সৌদি আরবের তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের (সিইডিএ) বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সৌদি আরবের শিল্প ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বন্দর আলখোরায়েফ জানিয়েছেন যে দেশটির শিল্প খাতের গত পাঁচ বছরের অগ্রগতির চিত্র খুবই উত্তেজনাপূর্ণ।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পুরো সৌদি আরবে সরকারিভাবে অনুমোদিত (লাইসেন্সড) কারখানা ছিল ৮ হাজার ৮৪২টি। ২০২৪ সালে এসে সেই সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কারখানার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কর্মসংস্থানও। ২০১৯ সালে দেশটিতে কারখানা শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৮ হাজার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪৪ হাজারে। শতকরা হিসেবে এই বৃদ্ধির হার ৭৪ শতাংশ।
সৌদি আরবের শিল্প খাতের আর্থিক পরিধি বা ভলিউমও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৯ সালে এই ভলিউম ছিল ৯০ হাজার ৮০০ কোটি রিয়াল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা (মুদ্রা বিনিময় হারের ভিত্তিতে)।
বন্দর আলখোরায়েফ বলেন, আমরা দেশের শিল্পখাতের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে চাই। এ কারণেই ইকামা ফি বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের শিল্প খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজ করা আরও সহজ হবে।
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়বে।
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশের জন্যও একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে উন্নতি হবে এবং দেশটির শিল্প খাত আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে।



