রাজশাহীর মোহনপুরে এক কৃষক পুকুর খনন নিয়ে বিবাদে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক্সেভেটর চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে বুধবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম জুবায়ের আলী। তিনি বড় পালশা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বড় পালশা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মন্জিলের ছেলে আনিসুজ্জামান রহমান বকুল ও মুনতাজ হাজির দুই ছেলে রুহুল আমিন ও রুবেল হোসেন এক্সেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করছিল। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক তাদের জমিতে পুকুর খনন করতে দেবে না বলে বাধা দেয়।
এ সময় মালিকরা এক্সেভেটর চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তখন চালক এক্সেভেটর চালিয়ে দিলে জুবায়ের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে জুবায়েরকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা রফিজ উদ্দিন বলেন, বকুল, রুহুল ও রুবেল জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই জোর করে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছিল। বাধা দিতে গেলে তারা ভেকু চাপা দিয়ে ছেলেকে হত্যা করে।
স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন করছিল বলে রফিজের অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে মোহনপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আক্তার বলেন, অনুমতি না নিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তারা রাতে পুকুর খনন করছিল। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছে, মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সরকারি বিধি অমান্য করে বিরহী বিলে প্রায় ১০ একর কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে। একই ইউনিয়নের মতিহার বিলে প্রায় ১৪ একর কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মাদ ভুট্টু।
এছাড়াও বাকশিমইল ইউনিয়নের ভেটুপাড়া বিলে প্রায় ছয় একর জমিতে পুকুর খনন করছে স্থানীয় বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন। আর কেশরহাট পৌরসভার গোপইল গ্রামের বিএনপি নেতা সেলিম হোসেনের ভাতিজা রায়হান আলী প্রায় সাত একর কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজ করছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে আমরা পুকুর খনন করছি।
পুলিশ জানিয়েছে, এক্সেভেটর চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



